আজ , , ,

শরীয়তপুর-চাঁদপুর মেঘনা সেতু অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন দোয়ার খোলবে

মেঘনা সেতু নির্মাণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের ৩২ জেলার মানুষ।
চট্রগ্রাম-খুলনা মহাসড়কের শরীয়তপুর-চাঁদপুর অংশের মেঘনা নদীর উপর ৮ কিলোমিটার সেতুটি হবে দেশে এ যাতৎকালে সর্ববৃহৎ ও দীর্ঘতম সেতু।
যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি নির্মাণ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সাথে সরাসরি দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার সংযোগ স্থাপন হবে। অবসান হবে ঝুঁকিপুর্ণ ফেরীতে পারাপারের অনির্ভরযোগ্য ব্যবস্থার। সেই সাথে চট্রগ্রামের সাথে সড়ক পথে খুলনার দূরত্ব কমে যাবে ৯০ কিলোমিটার পথ। রাজধানী ঢাকার উপর যারবাহনের চাপ বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরসেন্সাস ইউনিয়নের নরসিংহপুর পয়েন্ট থেকে চাঁদপুরের হরিনা ফেরীঘাট পয়েন্টে এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরো জানাযায়, প্রকল্পের বিপুল ব্যয় নির্বাহের জন্য উন্নয়ন সহযোগিদের কাছ থেকে যৌথ অর্থায়ন পাওয়ার চেষ্টা করছে সেতু বিভাগ। যার মধ্যে কোরিয়ার ইডিসিএফের ঋণের সুদের হার ০.০১ শতাংশ থেকে ০.০৫ শতাংশ, পরিশোধের মেয়াদ ৪০ বছর পর্যন্ত। যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। তবে শর্ত রয়েছে, কাজ অবশ্যই কোরিয়ান ঠিকাদারদের দিয়ে করতে হবে। সেতু প্রকল্পের ঋণ দেওয়ার জন্য জাপানকেও অনুরোধ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বর্তমানে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ মেঘনা সেতুর প্রকল্প প্রস্তাব তাদের ঋণ সিদ্ধান্তের জন্য চেয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মুহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়া অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া জাপানের কাছেও ঋণ চাওয়া হয়েছে। যৌথভাবেও অর্থায়ন আসতে পারে। ইআরডিকে বলা হয়েছে, সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করে দেওয়ার জন্য। তিনি আরও জানান, বিস্তারিত নকশা তৈরি হলে ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে।
সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ২৫ জুন প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কমিশন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। তারা আরও জানান, এরই মধ্যে ৪ আগস্ট মেঘনা সেতু নির্মাণ নিয়ে সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টি ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখ, টিবিসি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ দিকে সেতু নির্মাণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন উভয় পাড়েরে মানুষ। সেতুর পশ্চিম পাড়ের মানুষ চরসেন্সাস ইউনিয়নের বাসিন্দা সাবেক সংসদ সদস্য,শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান বলেন, সেতু ও সড়ক নির্মাণে আমি সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবো। সড়কের পাশে আমার বসত বাড়ি হওয়ায় সেটিও চলে যেতে পারে! তবুও আমি চাই দেশের বৃহৎ এই সেতুটি দ্রুত নির্মাণ হউক। কারণ আমার জন্মের পর থেকে দেখে আসছি মেঘনার উত্তলতায় নদী পাড় হতে গিয়ে আমাদের এ অঞ্চলের অগনিত মানুষের শলিল সমাধী হয়েছে। বহু পিতা মাতা হারিয়েছে তাদের সন্তান। আর সন্তানরা পিতা-মাতা হারিয়ে হয়েছে এতিম। অনেক পরিবারও নিচিহ্ন হয়ে গেছে। তাই আমি এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য আমার রাজনীতির শুরু থেকেই চেষ্টা করে আসছি।
ভেদরগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আবুল হাসেম ঢালী বলেন, মেঘনা সেতু নির্মাণ হলে সারা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের দোয়ার খোলার সাথে সাথে আমাদের ভেদরগঞ্জ উপজেলার অর্থনীতির ও বিশাল সম্প্রসারণ হবে। তাই আমরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ মাসুম বালা বলেন, আমি ২০০১ সাল থেকে মেঘনা সেতু নির্মাণের জন্য মেঘনা সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দাবী জানিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। সরকার এখানে সেতু নির্মাণের ঘোষনা আমাদের সফলতা। তাই সরকারের সেতু ও সড়ক বিভাগকে আমি শরীয়তপুরের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

Share this news as a Photo Card


১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ

www.hongkar.com |
dailyhongkar