বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ তরুণ হৃদয় আহমেদ শিহাবের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শোকাহত স্বজনরা। শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের আজগর হাওলাদার কান্দি গ্রামে ছুটে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
হৃদয়ের কবর জিয়ারত করে এনসিপি নেতারা কথা বলেন, শোকগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ হৃদয়ের মা নাছিমা বেগম এবং শারীরিক ভাবে অসুস্থ বাবা শাহ আলম হাওলাদার এখনো হার মানেননি বিচারের আশায়।
হৃদয়ের বড় বোন সাথী আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ভাইয়ের কবরটা এখনো পাকা হয়নি। কিছুদিন পর হয়তো আর চেনাই যাবে না। অন্তত কবরটা যেন সংরক্ষণ করা হয় এটাই আমাদের চাওয়া।
এ সময় এনসিপি শিবচর থানার যুব শক্তির অন্যতম নেতা মোঃ রিয়াজ রহমান বলেন,হৃদয় শুধু একটি পরিবারের সন্তান নয়, সে ছিল আমাদের সকলের ভাই। তার স্মৃতি রক্ষায় ও হত্যার সঠিক বিচারে আমরা সব ধরণের উদ্যোগ নেবো। কবর সংরক্ষণে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৯ জুলাই ঢাকার বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন হৃদয় আহমেদ শিহাব। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে ঢাকায় ফার্নিচারের কাজ শিখছিলেন তিনি। শহীদ হওয়ার আগের দিন বাড়িতে আসার কথা জানিয়ে মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভীন খানম বলেন, হৃদয়ের কবর সংরক্ষণের বিষয়টি পরিবার শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। পরিবারের জন্য আরও কিভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে।