Friday 19th July 2024
Friday 19th July 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/public_html/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

কোথায় হাড়িয়ে গেল দাঁড়িপাল্লা

কোথায় হাড়িয়ে গেল দাঁড়িপাল্লা

মানব সভ্যতার সূচনা লগ্নে তাদের ঊৎপাদিত পণ্যের বিনিময় বিনিয়োগের জন্য পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তখন থেকে মানুষ নির্ধারিত পাত্রের ব্যবহার শুরু করে। এতে তারা কাঙ্খিত চাহিদা মিটাতে না পেরে আরবদের ভাষায় মিজান, ইংরেজদের ভাষায় ওয়েট স্কেল আর আমাদের বাংলা ভাষায় দাঁড়িপাল্লা-বাটখারার আবিস্কার হয়।
আবহমান কাল ধরে এদেশের কৃষিসহ নানান পণ্য মাপ পরিমাপের একমাত্র ভরসা ছিলো নিক্তি, দাঁড়িপাল্লা বা বাটখারা। মানুষ সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই ক্রয় বিক্রয় বা বিনিময় ব্যবস্থায় পরিমান নির্নয় করার জন্য পরিমাপের প্রয়োজনে প্রথমে বিভিন্ন আকৃতির পাত্র ও সংখ্যায় শুরু করলেও এক সময় তা দাঁড়িপাল্লায় এসে পৌছায়। তবে কবে কখন কিভাবে এই পণ্যটি উদ্ভব হয়েছিলো তার সঠিক ইতিহাস জানা সম্ভব হয়নি। তবে একথা অনস্বীকার্য যে এই দাঁড়িপাল্লার স্থায়ীত্ব ছিলো সর্বোচ্চ কাল।
আমাদের দেশে প্রথম পর্যায় একটি দন্ডের দুই পাশে দুইটি থালা আকৃতি পাল্লা সরু দড়ি বা শক্ত সুতা দিয়ে দাঁড়িপাল্লা তৈরী হতো। কালের বির্বতনে পর্যায়ক্রমে এর নানান উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটে। একটি কাঠের দন্ড, যা সুপারি, তাল বা সুন্দরী কাঠের বাট বা দাঁড়ি তৈরী হতো। আর পাল্লা বা থালি হতো বেতের তৈরী হতো। শনের সরু দড়ি বা লাইলনের সুতার সাহায্যে পাল্লাকে দাড়ির সাথে সংযুক্ত করা হয়। এটি একটি কারুপণ্য হিসেবে নিজের অস্থিত্ব নিয়ে টিকে ছিলো স্মরণাতীত কাল থেকে বিংশ সতাব্দি পর্যন্ত। আমাদের দেশে নিজস্ব পদ্ধতির বাটখারায় প্রচলিত ছিলো হাজার হাজার বছর। এর পরে এই দাঁড়িপাল্লা লোহা স্টিল পিতল দিয়ে তৈরী হতো। যা প্রভাব প্রতিপত্তি ও বংশ মর্যাদার ধারক ও বাহক হিসেবে আমাদের সমাজে চিহ্নিত হতো বলে জানান অভিজ্ঞজনেরা।
আমাদের দেশের সভ্যতা ও প্রয়োজনীয়তায় একদিন যে দাঁড়িপাল্লার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য্য ছিলো। বিজ্ঞানের নিত্য নতুন আবিস্কারে ও আধুনিকতার প্রভাবে আমাদের হাজার বছরের সেই দাঁড়িপাল্লার ব্যবহার শেষ হয়ে গেছে কালের আবর্তে। যান্ত্রিক প্রযুক্তি নির্ভরতা বেড়েই যাওয়ায় মানব চালিত দাঁড়িপাল্লা যান্ত্রিক পাল্লায় পরিনত হয়েছে। যা এনালক থেকে ডিজিট্যাল এখন ডিজিট্যাল থেকে স্মার্ট পাল্লা বাজার দখল করে নিয়েছে। আমাদে আদি দাঁড়িপাল্লার জায়গা দখল করেছে যান্ত্রিক স্কেল।
সেই সাথে অযত্ন অবহেলা আর অনাদরের যাতনা সইতে না পেরে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘকাল টিকে থাকা দাঁড়িপাল্লা আমাদের সভ্যতা থেকে নির্বাশনে চলে গেছেন।
আমাদের বর্তমান ও অনাগত ভবিষ্যত প্রজন্ম হয়তো জানবেও না আমাদের দেশে এ ধরণের দাঁড়িপাল্লা আর বাটখারার বেশ প্রয়োজনীয়তা ছিলো। যা আজ শুধুই স্মৃতি। ভবিষ্যতে হয়তো দাঁড়িপাল্লা দেখার জন্য আমাদের যাদুঘরে যেতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।