Friday 19th July 2024
Friday 19th July 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/public_html/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

১০ হাজার মানুষের ভরসা একটি মাত্র নৌকা

ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছিডুর টেক এলাকার শাখা নদীটি নৌকায় পারাপার হচ্ছেন এলাকাবাসী। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার আর্শিনগর ইউনিয়নের ছিডুর টেক এলাকার নদীটি পাড় হয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের পারাপার হওয়ার ভরসা একটি মাত্র খেয়া নৌকা। তাই বৈরী আবহাওয়া কিংবা মাঝি না থাকলে বিপাকে পড়েন এ অঞ্চলের মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যুগ যুগ ধরে এ মানুষগুলোর দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে পাশে দাঁড়াননি কেউ। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উপজেলার আর্শিনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ চর ফেলিজ (ছিডুর টেক) এলাকা দিয়ে বয়ে চলেছে মেঘনার শাখা নদীটি। এর একটি অংশ ভেদরগঞ্জ হয়ে চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদীর হাইমচর অংশে মিলিত হয়েছে। বছরের পুরো ১২ মাস এই নদীতে পানি থাকে। নদীটির পূর্ব পাড়ে রয়েছে ঈশানবালা, আর্শিনগর, চর জালালপুর, আলাউলপুর ইউনিয়নসহ পাঁচটি ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পাড় হতে হয় এই নদী।
পূর্ব পাড়ের কাছাকাছি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় নদীটির পশ্চিম পাড়ে যেতে হয়। পূর্ব পাড়ের কৃষকরা কৃষিপণ্য পরিবহন করেন অন্তত পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে। কেননা নদীটি পাড় হওয়ার জন্য রয়েছে একটি মাত্র খেয়া নৌকা। সকাল ৮টা থেকে চলাচল শুরু হয়। চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। অনেক সময় পারাপারের একমাত্র নৌকাটি ডুবে গিয়ে ভোগান্তির কারণ হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অন্তত ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের নদীটি দিয়ে একটিমাত্র নৌকায় পাড় হচ্ছেন লোকজন। নৌকাটি আকারে ছোট হওয়ায় ১০ জনের বেশি পাড় হতে পারেনা। তাই বাকিদের পারাপার হতে ওপার থেকে নৌকা আসা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়।
দক্ষিণ চর ফেলিজ এলাকার বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন কলেজে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার জন্য নদীটি পাড় হতে যে বিড়ম্বনা পোহাতে হয় তাকে, সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাগুলো বর্ণনা করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আমাদের পারাপারের জন্য মাত্র একটি নৌকা। যখন নৌকার মাঝি অসুস্থ্য থাকে কিংবা বাড়িতে চলে যায়, তখন আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। এখানে একটি সেতু হওয়া জরুরি।
এলাকাবাসীর ভোগান্তি অবসানে একটি সেতুর দাবি জানান খোদ খেয়াঘাটের মাঝি হোসেন মিঝিও। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আমি এই ঘাটে লোকজন পারাপার করছি। তবে আমি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ি, নৌকা বাইতে পারি না, তখন এই এলাকার লোকজনের ভীষণ কষ্ট হয়। ছোট ছোট বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুল-মাদরাসায় যেতে পারে না। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, এখানে একটি সেতু করা হোক।
আর্শিনগর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছিডুর টেকের নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করার জন্য অনেকবার আবেদন জানিয়েছি। বেশ কয়েকবার এই জায়গায় সয়েল টেস্ট করা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে সেতুটি হচ্ছে না, বুঝতে পারছি না। এলাকাবাসীর স্বার্থে এখানে একটি সেতুর খুবই প্রয়োজন।
শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রাফেউল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। ওই স্থানে সেতুর জন্য প্রস্তাব দেওয়া থাকলে তার অগ্রগতির বিষয়ে কাজ করা হবে। যদি প্রস্তাব না দেওয়া থাকে, তাহলে নতুন প্রকল্পে সেতুটি অন্তর্ভুক্ত করে খুব শিগগির কাজ শুরু করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।