শরীয়তপুর জেলা শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ন অনেক বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছরেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। ওই বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় মুসলিম শিক্ষকরাই পাঠদান করাচ্ছেন।
শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৭৮ সালে জেলা শহরে শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। ১৯৮১ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি করা হয়। বিদ্যালয়টিতে ১ হাজার ২৫০ জন ছাত্রী পড়ালেখা করে। তাদেরকে প্রভাতি ও দিবা শাখায় পাঠদান করানো হয়।
শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। যার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। আর সহকারি শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ২০ টি।
বিদ্যালয়টিতে ইংরেজি বিষয়ের ৮টি পদের মধ্যে শুন্য রয়েছে ৪ জন শিক্ষকের পদ। গনিতের ৬ জন শিক্ষকের পদের মধ্যে শুন্য রয়েছে ১ জনের পদ, সামাজিক বিজ্ঞানের ৪টি পদের মধ্যে ৩ জন শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে, ভৌত বিজ্ঞান ৪টি পদের মধ্যে ২ জন শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে, জীব বিজ্ঞানের ৪ জন শিক্ষকের পদই শুন্য, ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের ৪ জনের মধ্যে ২ জন শিক্ষকের পদ শুন্য, চারুকলার ২ জন শিক্ষকের কেউ কর্মরত নেই, শারীরিক শিক্ষার ২ জনের মধ্যে ১ জনের পদ শুন্য ও কৃষি শিক্ষা বিষয়ের ২ জন শিক্ষকের পদের মধ্যে ১ জন শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। এ ছার উচ্চমান সহকারি, অফিস সহকারি, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৭টি পদের মধ্যে ৬ জনের পদই শুন্য রয়েছে। শুধুমাত্র একজন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন।
শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেনী হতে দশম শ্রেনী পর্যন্ত ১২০ জন হিন্দু ছাত্রী পড়ালেখা করছে। হিন্দু শিক্ষার্থীদের হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয় রয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়টিতে এখনো ওই বিষয়টি খোলা হয়নি। যার ফলে কোন শিক্ষকে পদায়ন করা হয়নি। বিদ্যালয়ের অন্য বিষয়ের মুসলিম শিক্ষকরা মাঝে মাঝে বিষয়টির পাঠদান করেন। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে বিষযটি পড়তে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েজন শিক্ষার্থী জানায়, অধিকাংশ সময় তাদের হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে পড়ানো হয় না। পরীক্ষা আসলে মুসলিম শিক্ষকরা কয়েক দিন পড়ান। তাতে তাদের ওই বিষযটি পড়ায় বিঘ্ন হয়। যার ফলে বিষয়টির ফলাফল খারাপ হয়।
বাংলা বিষয়ের শিক্ষক মনিরুজ্জামান মাঝে মাঝে হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে পাঠদান করান। তিনি বলেন, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর এখনো হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি চালু করা হয়নি। অনেক সময় হিন্দু শিক্ষক থাকেন না। তখন আমরা পাঠদান করাই। এতে শিক্ষার্থীরা বিব্রত হয়।
শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলী আকবর মিয়া বলেন, একজন শিক্ষককে সপ্তাহে ১৮ হতে ২০টি ক্লাশ নেয়ার কথা। তাতে সুন্দর ভাবে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা প্রস্তুত করতে পারে। কিন্তু শিক্ষক সংকট থাকায় একেকজন শিক্ষককে সপ্তাহে ৩২ হতে ৩৪টি ক্লাস নিতে হচ্ছে। তাতে তারাহুরো করতে হয়, শিক্ষার্থীরাও সঠিক পাঠদানটা পাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, চারুকলার ব্যবহারিক ক্লাস আমাদের করা প্রয়োজন। কিন্তু ওই বিষয়ের ক্লাস নেয়া হয় না। অন্য কোন স্যাররাও ব্যবহারিক ক্লাস নেন না। এ কারনে ওই বিষয়টির প্রতি আমাদের অদক্ষতা থেকে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সংকটের কারনে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। কর্মরত প্রত্যেক শিক্ষককে দিয়ে দ্বিগুন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষকরা ক্লান্ত ও অমনোযোগি হয়ে পরেন। শিক্ষক পদায়নের জন্য শিক্ষা অধিতপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন সারা পাচ্ছি না।
শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি জেলা প্রশাসক নিজাম উদ্দীন আহাম্মদের নজরে আনলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।