আজ , , ,

চাঁদা না দেওয়ায় বন্ধ ঘোরাচানের চামড়ার ব্যবসা

চাঁদাবাজদের দাবী পূরণ করতে না পেরে দেড় যুগের পুরনো চামড়ার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে গৌরাঙ্গ দাসের। নারী ও শিশু এবং মাদক মামলাসহ জীবন নাশের হুমকিও রয়েছে তার উপর। আইনী সহায়তা পেতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ঘোরাচান।
স্থানীয় সূত্র ও জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া অভিযোগ থেকে জানাগেছে, ঘোরাচান শরীয়তপুর পৌরসভার তুলাসার গ্রামের মৃত পঞ্চচন্দ্র ঋষি দাসের পুত্র। পূর্বপুরুষের চামড়ার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সে পৌরসভার পালং (বাঘিয়া) এলাকায় আতাউর রহমান তালুকদারের ঘর ভাড়া নিয়ে ১৮ বছর ধরে চামড়া প্রক্রিয়াজতসহ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। দুই বছর ধরে স্থানীয় বাচ্চু শেখের পুত্র রাসেল, রনি, শান্ত, মান্নান সরদারের ছেলে তানভীর, মদন পালের ছেলে সঞ্জয় ওই চামড়া ব্যবসায়ীর নিকট চাঁদা দাবী করে আসছে। চাঁদা দেয়ার ভয়ে মনোরঞ্জন নামে অপর এক চামড়া ব্যবসায়ী ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। কিছুদিন যাবৎ চাঁদাবাজরা ঘোরাচানের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। চাঁদা না দিয়ে সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গেলে তাকে নারী ও শিশু এবং মাদক মামলা দিয়ে হয়রানী করবে। প্রয়োজনে জীবনে শেষ করে দিবে তাকে। ইতোমধ্যে তার ৬ লাখ টাকার চামড়ায় পচন ধরেছে। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে পথে বসতে হবে তার।
ভুক্তভোগী ঘোরচান জানায়, চাঁদাবাজরা ইতোপূর্বে তার কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে। এবার বাৎসরিক ৩০ হাজার টাকা দাবী করেছে। চাঁদা দিতে না পারায় ৮ দিন ধরে গোডাউনে যেতে পারছে না সে। কশাই পট্টিসহ বিভিন্ন গ্রামে তার ৮৫০টি চামড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অনেক চামড়ায় পচন ধরেছে। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে সব চামড়া পচে যাবে। আইনী সহায়তা পেতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।
চামড়া ব্যবসা ছেড়ে আসা মনোরঞ্জন জানায়, গত বছর তার কাছে চাঁদাবাজরা চাঁদা চায়। পরে সে সেখান থেকে গোডাউন সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র ব্যবসা করছেন।
এই বিষয়ে গোডাউন মালিক আতাউর রহমান তালুকদার বলেন, আমার ভাড়াটিয়ার কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয় আমাদের জানায়। আমি চাঁদাবাজদের সাথে ঘোরাচানকে মিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। আসলে গোডাউনটা একটু নির্জণ জায়গায়। সেখানে চাঁদাবাজরা মাদক সেবন ও ব্যবসা করে। সেখানে চামড়ার গোডাউন না থাকলে ওদের মাদক সেবন ও ক্রয়-বিক্রয় করতে সুবিধা হয়। তাই ঘোরাচানকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য চাঁদাদাবী করেছে। আমি ঘোরাচানকে আইনী সহায়তা গ্রহণ করতে পরামর্শ দিয়েছি। আমি সকল প্রকার সহায়তা করব।

Share this news as a Photo Card


০১ অক্টোবর ২০২৬

নড়িয়ায় পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ফাটল

www.hongkar.com |
dailyhongkar