শরীয়তপুরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ক্রয় এবং দাখিলে বাঁধার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। এসময় প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে গেলে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটে। যদিও এধরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব।
জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে গত মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। মনোনয়নপত্র ক্রয় এবং দাখিলের শেষ দিন ধরা হয়েছিলো রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত। তবে এদিন সকাল থেকে দরজায় অবস্থান নেয়া আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা ও বহিরাগতরা মিলে অন্যান্য দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন কিনতে বাঁধা প্রদান এবং শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবীরা।
রোববার বেলা ১টার দিকে সভাপতি পদে মনোনয়ন ক্রয় করতে সমিতির সম্মেলন কক্ষে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আইনজীবী মোসলেম খান। প্রথম দফায় তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি বিএনপি কিছু নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে তাকে টেনে নিয়ে তার চেম্বারে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি পুনরায় মনোনয়নপত্র কিনতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে গলাধাক্কা দিয়ে সমিতি থেকে বের করে দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কিছু আইনজীবী ও বহিরাগতরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি স্বৈরাচারকে সমর্থন করি না। এরপরেও আমাকে মনোনয়ন ক্রয় করতে দেয়নি আইনজীবী ফোরামের লোকজন। তারা এককভাবে আইনজীবী সমিতির পদ দখল করবেন। আমাদের আইনজীবীদের অধিকার হরণ করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মুন্সি করেছেন গুরুতর অভিযোগ। তার দাবী সহকারী নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার মনির নিজে ওই প্রার্থীর চেম্বারে এসে মারধর করেছেন। মুরাদ মুন্সি অভিযোগ করে বলেন, আমি কার কাছে বিচার দিবো। একটা ঘটনা ঘটলে বা কোনো প্রার্থী মারধর করলে নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিচার দিতাম সেখানে স্বয়ং নির্বাচন কমিশনার এসে আমাকে মারধর করেছে। আমার দল শান্তিপ্রিয় দল, তারা যদি এভাবে আমাদের মারধর করে তাহলে আমাদের আস্থার জায়গা আর রইলো না।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নব আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমি অডিট সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে গিয়েছিলাম। সেখানে বিএনপির সমর্থিত লোকজন বহিরাগতদের এনে আমাদের বাঁধা প্রদান করেছে। একপর্যায়ে আমরা চলে আসতে বাধ্য হই। এটা আমরা কখনোই আশা করিনি।
এদিকে এধরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবির বলেন, ঢাকা বার হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বার। পার্লামেন্টে ফ্যাসিবাদীদের দোসরদের বিরুদ্ধে যে আইন পাশ হয়েছে তারপরে সেখানে তারা আর মনোনয়ন দাখিল করতে পারেনি। সেই সুবাদে আমাদের নির্বাচনে যারা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ তারা বাদে সবাই মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। আমরা কাউকেই বাঁধা প্রদান করিনি।
এদিকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার মনির বলেন, আমরা সকাল থেকেই আইনজীবী সমিতির সম্মেলন কক্ষে ছিলাম। কারো চেম্বারে গিয়ে মারধরের প্রশ্নই উঠে না। কেন এমন অভিযোগ করেছে আমি জানিনা।
বিষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, সুষ্ঠুভাবেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং দাখিলের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। আমরা সম্মেলন কক্ষেই ছিলাম। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র ক্রয় এবং দাখিলের সময় কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। আমরা সামনেই উপস্থিত ছিলাম।