আজ , , ,

শরীয়তপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ধর্ষণের অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১২ নভেম্বর বুধবার বিকেলে এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ভোররাতের দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হলে ওই নারী ধর্ষিত হন। যদিও ২ অভিযুক্ত ধর্ষণের বিষয় অস্বিকার করেছেন। তাদের দাবী পাওনা টাকা চাওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার এর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারী বুধবার এসে অভিযোগ করেন তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে ধর্ষিত হন। পরে তিনি নিজে বাদী হয়ে সদর উপজেলার বেড়া চিকন্দী এলাকার আনু সিকদারের ছেলে ইকবাল সিকদার (৩৫) এবং মৃত হাফেজ বেপারীর ছেলে আফসার বেপারী কে (৪০) আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তারা দুজনই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। ওই নারী মামলা করার পর বৃহস্পতিবার আসামিদের গ্রেপ্তার করি। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পর্ণ হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হন ওই নারী। টয়লেটে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত ইকবাল ও আফসার তাঁর মুখে ওড়না পেঁচিয়ে জোরপূর্বক ধরে ঘরের পেছনের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে তারা পর্যায়ক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।
একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বুধবার সকাল ৮টার দিকে তাঁর জ্ঞান ফেরে। ঘটনার পর ওই নারী বাদী হয়ে বুধবার বিকেলে পালং মডেল থানায় ইকবাল ও আফসারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশ বেড়া চিকন্দী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমার স্বামী ইতালি প্রবাসী। এই জন্য ইকবাল আমাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিত। আমি রাজি না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে সে তার সহযোগী আফসারকে নিয়ে আমাকে ঘরের পেছনে ধরে নিয়ে যায়। প্রথমে ইকবাল আমাকে ধর্ষণ করে, এরপর আফসার আমাকে ধর্ষণ করতে গেলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে।
তিনি আরও বলেন, “আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। প্রশাসনের কাছে কঠিন বিচার দাবি করছি। যদি বিচার না হয়, আমি আত্মহত্যা করব।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত আসামি ইকবাল সিকদার থানায় আটককালীন সময় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, “আমরা ওই নারীকে ধর্ষণ করিনি। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। পরে শুনেছি আমাদের নামে মামলা হয়েছে। দুই মাস আগে ওই নারী আমার কাছ থেকে জমি কেনার জন্য ৬০ হাজার টাকা নিয়েছিল। টাকা ফেরত চাওয়ায় হয়তো আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। তাই পুলিশ আমাদের এখন ধরে নিয়ে এসেছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সুস্মিতা বলেন, “আমরা ওই নারীর ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ পরীক্ষা করতে দিয়েছি। রিপোর্ট হাতে পেলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না। তবে তাঁর শরীরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে।”

Share this news as a Photo Card


২৫ আগস্ট ২০২৬

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিপিজেএফের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

www.hongkar.com |
dailyhongkar