আশরাফুল হক পেশায় হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। শখ গরু পালা। প্রতিবছরই কোরবানির জন্য গরু প্রস্তত করেন। এবারও তা করেছেন। সেটির নাম শান্ত। ওজন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ মন। স্বভাবে শান্ত হওয়া হলস্টেইন ফ্রিজিয়াম জাতের গরুটির নাম রেখেছেন শান্ত।
আশরাফুল হক ডামুড্যা উপজেলা কনেশ্বর ইউনিয়নের সুতলকাঠি গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। চার বছর ধরে গরুটি লালন পালন করছেন সে।
৬ মাস বয়সে কিনে আনেন গরুটি। আনার পর প্রথম এক বছর ঘরের বাহিরে বের করলেও আড়াই বছর ঘরের বাহিরে বের করেনি। এটিকে সব সময় ফ্যান ছেড়ে রাখতে হয়। প্রতিদিন ৩ বার গোসল করাতে হয়। চারবার এটি খাবার খায়। খাবারের তালিকায় রয়েছে বুশি, কুড়া, খইল, জাউ ভাত ও চিটাল। এছাড়া গরুটির সামনে জার্মানী ঘাস রাখা থাকে। এটি লম্বায় ৯ ফুট ও দৈর্ঘ সারে ৮ ফুট। গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ। এরই মধ্যে বিশালাকার গরুটিকে নিয়ে চলছে মাতামাতি। বিশালাকার গরুটিকে দেখতে বিভিন্ন গ্রামের লোকজনসহ ব্যবসায়ীরা আসছেন এবং দাম করছেন। দাম পেলেই আশরাফুল হক বিক্রি করবেন শান্তকে।
গরুর মালিক আশরাফুল হক বলেন, ৪ বছর আগে ছয় মাস বয়সে ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি গোসাইরহাট থেকে কিনে আনি। গরুটি দেখে আমার পছন্দ হয়ে যায়। আমি আর আমার স্ত্রী গরুটি লালন পালন করা শুরু করি। গরুটি অনেক শান্ত তাই আমরা এটিকে আদর করে শান্ত বলে ডাকি। গরুটি বাড়িতে কেউ ঢুকলেই ঢাকা শুরু করে। ঘরের কেউ না আসা পর্যন্ত এটি ডাকতে থাকে। গরুটি কখনই ফিড খাওয়াইনি। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়েছি। আমার গরুর গায়ে ইনজেকশন দেইনি। অসুস্থ না হওয়ার কারণ ঔষুধও খাওয়াতে হয়নি। আমার বাড়িতে যে এত বড় একটি গরু আছে তা কেউ জানে না। নিজের থেকে বেশি যত্ন করেছি গরুটিকে।
তিনি আরও বলেন, যদি কারোও নিজের অর্থ না থাকে তাহলে বড় গরু করাটা ঠিক না। কারণ খাবারের অনেক দাম। ব্যবসায়ীরা গতবছর আমার বাড়িতে এসে গরুর দাম আট লক্ষ টাকা বলেছে।