শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের মহিষার গ্রামে স্মরণাতীত কাল থেকে চলে আসা ৭ দিন ব্যাপি বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও দিগম্বরী মাতার মন্দির কমিটির ব্যবস্থাপনায় পহেলা বৈশাখ থেকে ৭ দিন ব্যাপি এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
আবহমান বাংলায়, ঐতিহ্যবাহী ৬শবর্ষী মন্দিরের মাঠে, বিশালাকার বটবৃক্ষের ছায়াতলে, শান্ত দীঘির পাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে এ মেলা বসে।
সকাল ১০ টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে মেলার শুভ সুচনা করেন, মন্দির কমিটির সভাপতি ও শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক ব্যানার্জির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন মোড়ল, মহিষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মোঃ অরুন হাওলাদার, মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধকালিন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান রাড়ী সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর জিতেন চন্দ্র রায় সূত্র জানাগেছে, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আবাল, বৃদ্ধ বনিতা, সকলের অংশগ্রহণে এ মেলা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। মহিষার ইউনিয়নের শ্রী শ্রী দিগম্বরী মাতাঠাকুরানী মন্দির প্রাঙ্গনে শত শত বছর যাবৎ ব্যাপক উৎসব ও উদ্দীপনায় বসে বৈশাখী মেলা। এখানে সাতদিনই হিন্দু ধর্মাবল্বীদের পূজা উদযাপন হয় সুবিশাল শত শত বর্ষী বট ও বৃক্ষের ছায়া তলে।
মেলার প্রথমদিন থেকে হিন্দু পঞ্জিকা মেনে পূজার্চনা ও মূল কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিখ্যাত এই মন্দির প্রাঙ্গনে পূজা দিতে আসে ধর্মভীরু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দরা। শনি ও মঙ্গলবার দেয়া হয় পাঠা বলি। এ ছারাও সপ্তাহের মঙ্গলবারে মহাউৎসবে পূজিত হয় মাতাঠাকুরানীর মনসা মন্দির। মন্দির প্রাঙ্গনের পাশের সুবিশাল দীঘিতে দুধ ঢেলে পূজা করেন ভক্তবৃন্দ। তাদের বিশ্বাস এতে তাদের রোগবালাই মুক্ত ও জাগতিক মঙ্গল সাধিত হয়।
মন্দির প্রাঙ্গনে সাতদিন ব্যাপী এ মেলায় বসে নানান রকমের দোকান, মাটির খেলনা, হরেক রকম মণিহারী পণ্য, বাঁশের তৈরি লোকজ শিল্পের বিভিন্ন পণ্য, গ্রামীন জীবনে গায়ের বধুদের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র। মেলা শুরু হয় সকাল ৭ টায় শেষ হয় সন্ধ্যার পরপরই।
মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিশিষ্ট ব্যাংকার কুশল চন্দ্র দাস বলেন, এ মেলা কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এ মেলা শরীয়তপুর জেলার ঐতিহ্য ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রাণের উৎসব। এখানকার মুসলিমরা আমাদের নানান কাজে সহায়তা করে থাকেন। এছারা থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন আমাদের মেলার নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তি শাহআলম হাওলাদার বলেন, বহু বছর ধরে আমরা এলাকার মুসলমানরা সহ দূরদূরান্তের অনেক মুসলমান মেলায় আসেন। আমরা মনে করি মানুষের জন্য ধর্ম তাই আমরা মানুষ এবং মুসলমান বলেই সকল ধর্মের মানুষের জন্য আমরা কাজ করি।
ভেদরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মিন্টু মন্ডল জানান, মেলার শুরু থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক উন্নয়নে জন্য নিয়োজিত আছে। এছারা পুরো মেলা প্রাঙ্গন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। যে কোনোও ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ মেলার নিজস্ব স্বেচ্ছা সেবকদের সাথে নিয়ে কাজ করছে।
উৎসব প্রিয় আগত অতিথিরা বলেন, যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই মেলা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, সারা জেলা ও সারাদেশের সংস্কৃতিমণা মানুষের প্রাণের উৎসব আর এ বছর মহিষারের দিগম্বরী মেলা বিগত বছরের তুলনায় জম জমাট হবে বলে দোকানীরা প্রত্যাশা করছেন।