পাটের সোনালী অতিত আবার ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করেন শরীয়তপুর জেলা জাজিরা উপজেলার পাট চাষীরা। জাতির পিতার কন্যা কৃষি বান্ধব প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় পাটের সুদিন আবার ফিরতে শুরু করেছে।
চলতি বছরে জাজিরা উপজেলায় পাট চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি। সরকারের প্রণোদনা বীজ, সার সহায়তা ও উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় জাজিরা উপজেলায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের কৃষক সিরাজ কোটারী বলেন, এক সময়ে সোনালী আঁশ পাট কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকারের যুগোপযোগি পদক্ষেপ পাট অধিদপ্তরের প্রচেষ্টা আর কৃষি বিভাগের আন্তরিকতায় পাটের সুদিন আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। গত মৌসুমে আমাদের উপজেলায় সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। এর ফলে ১ হাজার ৪০০ হেক্টর অধিক জমিতে পাটের আবাদ বেশী হয়েছে। বৃষ্টি কম হওয়ায় ও বর্ষায় পানি না হওয়ায় পাট পচাতে ও আঁশ ছাড়াতে খরচ একটু বেশী হচ্ছে। এর পরেও এবার পাটের ফলনে কৃষকরা লাভবান হবে।
জাজিরা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জামাল হোসেন বলেন, পাট বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানি আয়ের উৎস। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে পাটের ভূমিকা স্বাধীনতার পূর্বকাল থেকেই সর্বজনবিদিত। উত্তম মানের আঁশ উৎপাদনে পদ্মার পলি বিধৌত জাজিরা উপজেলার কৃষকেরা এগিয়ে থাকে সারাদেশের মধ্যে। এই বছর উপজেলার ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে যার মধ্যে প্রায় ৬০ ভাগ পাট ইতিমধ্যেই কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। কৃষক কৃষাণী এখন ব্যস্ত সময় পার করছে জাগ দেওয়া, আশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানো কাজে। যদিও বৃষ্টির অভাব এবং বর্ষাকাল বিলম্বিত হওয়ায় কৃষকদের পাট পচাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে কিন্তু বাজারে ভাল দাম তাদের কষ্ট ভুলিয়ে হাসি এনে দিচ্ছে। বর্তমানে মান ভেদে আমাদের উপজেলায় প্রতি মন পাট ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।