আজ , , ,

আগামীকাল বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী সোমবার (৮ আগস্ট)। দিবসটি এবার দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবে। উল্লেখ্য গত ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন ৮ আগস্ট ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফলে এখন থেকে প্রতি বছরই দিনটি জাতীয় দিবস হিসেবে জাতীয় ভাবে পালিত হবে।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন দেশের স্বাধীনতাসহ বঙ্গবন্ধুর সব লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণা দানকারী ছিলেন বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব। তিনি বঙ্গবন্ধুর সমগ্র রাজনৈতিক জীবন ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু যখন বার বার পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি জীবনযাপন করছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কাছে ছুটে আসতেন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা জানতে। তিনি তাদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিতেন এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা জোগাতেন।
বিশেষ করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় যখন বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি নিয়ে কিছু কুচক্রী স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল, তখন প্যারোলে মুক্তির বিপক্ষে বেগম মুজিবের দৃঢ়চেতা অবস্থান বাংলার মুক্তি সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
জাতির পিতার আমৃত্যু সঙ্গী, বাংলার মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল রেনু। বঙ্গবন্ধু তাকে এ নামেই ডাকতেন। তার পিতার নাম শেখ জহুরুল হক এবং মাতার নাম হোসনে আরা বেগম। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। তিনি ৫ বছর বয়সেই পিতামাতা হারান। ৮ বছর বয়সে চাচাতো ভাই শেখ মুজিবের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর থেকেই তিনি ছিলেন জাতির পিতার আমরণ সঙ্গী। এই মহীয়সী নারী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সপরিবারে স্বাধীনতা বিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে খুনিচক্রের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে শহীদ হন।
দিনটিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর দুস্থ ও অসহায় নারীদের মাঝে নগদ টাকা ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে। সকালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এঁর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, বিভিন্ন উপজেলায় কর্মক্ষম ও প্রতিবন্ধী মহিলাদের মাঝে নগদ অর্থ ও সেলাই মেশিন বিতরণ,‘মহিয়সী’ বঙ্গমাতার চেতনা অদম্য বাংলাদেশের প্রেরণা শীর্ষক আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা।
ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে আওয়ামী লীগ। দিবসটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card


০৫ আগস্ট ২০২৬

নড়িয়ার বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মাঝে প্রবাসী বিএনপি নেতার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

www.hongkar.com |
dailyhongkar