শরীয়তপুর, সুরেশ্বর, চন্ডিপুর, ওয়াপদা, নরসিংহপুর, ডামুড্যা, পট্রি, কোদালপুর রুটে লঞ্চ পরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা কমবেনা বলে ধারণা করেছে লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকরা।
সড়ক পথের সঙ্গে পাল্লা দিতে শরীয়তপুর-ঢাকা নৌপথে লঞ্চে আসছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সুরেশ্বর-ঢাকা রুটের মিরাজ লঞ্চের সুপার ভাইজার দোলন মুন্সী বলেন, গত ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলেও সড়ক পথের বেহাল দশার কারণে অধিকাংশ যাত্রী আরামে যাতায়াত করার জন্য লঞ্চে যাতায়াত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, সেতু চালু হওয়ার ফলে দক্ষিণের ২১ জেলার চেহারা বদলে যাবে। সড়ক পথে উঠতে শুরু করেছে গতির ঝড়। শরীয়তপুর জেলার মানুষেরা এখন বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করারও চিন্তা করছেন। সে লক্ষে আমাদের মালিকরা ও লঞ্চের গতি ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ করার চিন্তা করছে।
২৭ জুন সকাল ৭ টায় ঢাকার সদর ঘাট থেকে জামাল-১ ছেড়ে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে সুরেশ্বর ঘাটে এসে পৌঁছে । অন্যান্য দিনের মতোই এ লঞ্চে যাত্রী ছিল বলে দাবী করেন ঐ লঞ্চের সারেং মোতাজ আলী মিয়া। তিনি বলেন, শরীয়তপুরে জেলা সদরে শুধু বাস চলবে। উপজেলার লোকজন তাদের সুবিধার জন্যই লঞ্চে যাতায়াত করবে। সড়ক পথের কারণে ঢাকা থেকে শরীয়তপুর আসতেই একটি গাড়ীর ৩ থেকে সারে ৩ ঘন্টা লাগবে। তার পরে ভেঙ্গে গাড়ীতে যেতে আরো সময় লাগবে। আমরা যদি সেই সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারি তা হলে আমাদের যাত্রী কমবেনা।
সুরেশ্বর ঘাটের মাছ বিক্রেতা কালাচাঁদ মোড়র বলেন, অন্য দিনের মত আইজ আরো যাত্রী বেশী আইছে। যারা লঞ্চে যাওনের হেরা যাইবোই। আর বাসে উঠতে অইলে শরীয়তপুর যাওন লাগবো। লঞ্চে আমাগো দোয়ার তনই উঠতে পারুম।
শরীয়তপুর-ঢাকা নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চ গুলোতেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগছে বলে জানান ভেদরগঞ্জের অধিবাসী আবুল হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, গতকাল আমি বাসে ঢাকা গেছি, আমাদের গাড়ী বিপরীত দিক থেকে আর একটি বাস আসলেই সরু সড়কের জন্য একটি থামাতে হয়। এছাড়া যানজটতো আছেই। শরীয়তপুর থেকে কোটাপাড়া বীজ, জাজিরার টিএন্ডটি মোড়, কাজিরহাট মোড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। শরীয়তপুরে রাস্তা ঘাট ঠিকনা হওয়া পর্যন্ত লঞ্চে যাত্রী কমবে না।