প্রতিবেশী প্রবাসীর ঘরের কাচের জানালা ভেঙ্গে জনতার ধাওয়া খেয়ে গুরুত্বর আহত নিশিকুটুম্ব কালু (৩৬) কে খুঁজছে ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ।
ভেদরগঞ্জ থানার দক্ষিন মহিষার গ্রামের মাঈন উদ্দিন তপাদারের মেঝে ছেলে সৌদি প্রবাসী আলমগীর তপাদারের পাকা ঘরের কাঁচের জানলা ভাঙ্গার সময় ঘরের লোকজনের চিৎকারে ছুটে আসা গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে গুরুত্বর আহত হয় একই গ্রামের নুরুল ইসলাম ঢালী ছোট ছেলে কালু ঢালী।
থানা ও এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একাধিক চুরি, ছেচরামি ও নারীদের উত্ত্যক্তকারী কালুকে ইতিপূর্বে অসংখ্য বার বিচার করা হয়েছে। তারপরেও তার স্বভাবের পরিবর্তন ঘটেনি। গত ১৬ মে দিবাগত রাতে প্রতিবেশি সৌদি প্রবাসী আলমগীর তপাদারের ঘরের পূর্ব-দক্ষিন কোনের ঘরের জানলা ভেঙ্গে ভিতরের প্রবেশের চেষ্টা করে কালু। টের পেয়ে গৃহবধু ফোনে তার শ্বশুর ও দেবরকে জানায় তাদের চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে আসার পূবেই কালু পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মাঈন উদ্দিন তপাদার বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেন। যার নং-৫২৮, তারিখ: ১৬-০৫-২০২২ ইং।
এ ব্যাপারে স্থানীয় শিপন মৃধা জানান, তার বাড়ীর ঘরে সীঁধ কেটে চুরি করে কালু। তার বিচার করেছে সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নুরুল ইসলাম সিকদার। ওর স্বভাব চরিত্র অত্যান্ত খারাপ। ওর কারণে যেসকল নারীদের স্বামীরা বিদেশ থাকে তাদেরকে কালু নানা ভাবে উত্যক্ত করে।
পুটিজুড়ি গ্রামের বিল্লাল হাওলাদার জানান, এই কালুর কারণে সাজনপুর ফেদু সরদারের ছেলে নুরুল ইসলাম সরদারের ঘর ভেঙ্গেছে। পরবর্তিতে নুরুল ইসলাম শোকে দুঃখে নিজে মারা গেছেন। ওর কেলেঙ্ককারির শেষ নেই। সড়কে স্থাপন করা সোলার লাইট গুলোকে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেছে। এই ব্যাপারেও স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যান বিচার করেছে।
অপর দিকে একই গ্রামের সুধাংশু দেবনাথ জানান, তার ঘরে থাকা ডাক্তার মেয়ের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় এই কালু। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় ওর কাছ থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে স্থানীয় শালিশগণ।
একই গ্রামের মোহাম্মদ আলী সরদার জানান, তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে একা ঘরে থাকে। তার ঘরে সীঁধ কেটে মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয় মেম্বার মনিরুজ্জামান হাওলাদার ও তৎকালিন চেয়ারম্যান সাহেব ওর বিচার করেছে।
থানায় অভিযোগকারী মাঈন উদ্দিন তপাদার বলেন, আমার ছেলের বৌ এর ঘরে রাত ২টার দিকে ঘরের জানলা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। আমরা টের পেয়ে চিৎকার দিলে গ্রামবাসী মিলে ওকে ধাওয়া করে। তখন ওর কাঁচে হাত কেটে যায় বলে অনুমান করছি। এব্যাপারে আমি বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।
অভিযুক্ত কালুর মা চম্পা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে গত সোমবার রাত থেকে খুঁজে পাচ্ছিনা। ও আহত হয়ে শরীয়তপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল শুনেছি। এরপরে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার ঢাকা পাঠিয়েছে বলে জানতে পারলাম।
অভিযক্ত কালুর ভাই আবুল হোসেন বলেন, আমার ভাইয়ের স্বাভাবের একটু দোষ থাকলেও বর্তমান অভিযোগটি সঠিক না। তাদের সাথে আমাদের ঝামেলা থাকার কারণে আমার ভাইকে বিনাদোষে দোষি করছে।
মহিষার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী হাওলাদার অরুন বলেন, মাঈন উদ্দিন তপাদার তার বাড়ীতে চোর এসেছিল মর্মে আমার কাছে অভিযোগ জানাতে আসে। আমি সকারে সরেজমিন পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে বিচার মিমাংশার জন্য পরিষদে আসতে বলি। তবে মাঈন তপাদারের পক্ষ আসলেও অভিযুক্ত কালুর পক্ষের কেউ যোগাযোগ করেনি।
ভেদরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মহিষার গ্রামের মাঈন উদ্দিন তপাদার বাদী হয়ে কালু ঢালীসহ ২ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পাঠিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছি। কালু পালিয়ে গেছে তাকে পাওয়া গেলে মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। আইনী প্রক্রীয়া চলমান আছে।