আজ , , ,

সোনালী ধানে ভরে উঠেছে ভেদরগঞ্জের বোরো ধানের মাঠ

সরকারি প্রনোদনা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অনুকূল আবহাওয়ায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলাতে। কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস বোরো ধান। আদিকাল থেকেই এ উপজেলার চাষীরা বোরো ধান চাষ করে আসছে। বোরো ধানের মাঠে এখন দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। প্রতিটি ধানের খেত এখন সোনালী ধানের সমারোহে মুখরিত দিগন্তজুড়ে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা। ধানের বাম্পার ফলনের ফলে কৃষকের মুখে ফুটেছে কাঙ্খিত হাসি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে কৃষক। এই মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে। অবাদের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমি। এ বছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ১৪২ মেট্রিকটন। তবে মোট লক্ষ মাত্রার চেয়ে ১ হাজার মেট্রিকটন বেশি ফসল উৎপাদনের আশা করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
মহিষারের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, জমিতে পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছি আমরা। চাষীরা সবাই এখন দল বেঁধে কাস্তে নিয়ে খেতে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউবা ধান কাটার যন্ত্র (কম্বাইন-হারভেস্টার) দিয়ে, একই সাথে ক্ষেতের ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই করে বস্তাবন্ধি করছেন। এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এখন জমিতে পানি না জমলেও গত ২-৩ দিন ধরে চোখ রাঙাচ্ছে কালবৈশাখী ঝড়। তাইতো ঝড়বৃষ্টির ভয়ে আধাপাকা ধানও কেটে ফেলছে কৃষকরা।
উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নে চাষী মোঃ রিপন মৃধা বলেন, কম খরচে বিষমুক্ত বোরো ধান নিজে চাষে করেছি। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার অশানুরূপ ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের দামও চাহিদা মতো পাওয়ায় আমরা খুশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই প্রকৃতপক্ষে আমাদের মুখে হাসি ফুটবে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী কৃষি অফিসার মামুনুর রশিদ হাসিব জানান, এ বছর আমাদের উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল ৬৫০ হেক্টর, উপশী ৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর ও দেশী জাতের ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। ভেদরগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবদ করা জাত গুলো হচ্ছে হিরা, টিয়া ও এস এল-৮। উপশী জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-৯৬, ৯২, ৮৯, ৮১, ৭৪, ৬৭, ৫০, ২৯ ও ২৮।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তানবিন হাসান শুভ জানান, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪৩ হাজার ৯শ’ জন কৃষক রয়েছে। যার মধ্যে কৃষি কার্ড ধারি রয়েছেন ২৫ হাজার ৮ জন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে এই উপজেলার ৩ হাজার ৪শ জন কৃষককে দেয়া হয়েছে ২ কেজি করে হাইব্রিড ধানের বীজ। ১ হাজার ৫শ’ কৃষককে দেয়া হয় ৫ কেজি করে দেশিয় ধানের বীজ। ৪০৬ জন ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষককে দেয়া হয় সার ও কীটনাশক।
সরেজমিনে দেখা যায় মাছের ঘের ও ইটভাটার জন্য মাটি কাটার ফলে এই উপজেলার প্রায় ২ হাজার ২২৮ হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদি রয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে আবাদ করা ফসলের ২৫% ধান কেটেছেন কৃষকরা। উপজেলার শ্রমিক সংকট দূর করার জন্য এ উপজেলায় কৃষকরা এখন কম্বাইন-হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা ঝাড়াই মাড়াই ও বস্তা ভর্তি করে থাকে। তাছাড়া ধান কাটার একাধিক অত্যাধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার) ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলনে কৃষকরা নিঃসন্দেহে লাভবান হবেন।

Share this news as a Photo Card


১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডামুড্যায় নকল ঔষধ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

www.hongkar.com |
dailyhongkar