করোনার জন্য বন্ধ থাকার ২ বছর পরে ১৫ এপ্রিল থেকে আবার বসেছে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী মহিষার দিগম্বরী মেলা।
২০২০ ও ২০২১ সালে সরকারের বিধি নিষেধের কারণে জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার গ্রামে প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন হয়নি। এবছর শান্তিপুর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্ততি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চন্দ্র তীথি অনুযায় দেশের ক্যারেন্ডারের ২ বৈশাখে এ মেলা শুরু হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় থানা পুলিশের পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এ ছারাও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক মহিষার দিগম্বরী দিঘীর পশ্চিম পাশে মোগল আমল থেকে এ মেলা বসছে। এই জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। মুঘল আমলের স্বাধীন ১২ ভূঁইয়ার একজন বিক্রমপুর পরগনার জমিদার রাজা চাঁদ রায় দিগম্বরী সন্ন্যাসীর অনুরোধে ১০ একর জমির উপর এই দিঘী খনন করা হয়।
ছয়শ’ বছরের পুরনো মহিষারের দিগম্বরীর সন্যাসীবাড়ি ও দিগম্বরী দিঘীটি বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান ও বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২৩ একর ৮৫ শতাংশ জমির ওপর রয়েছে দিগম্বরীর পৈতৃক বাড়িসহ মেলা চত্বর, জোড়া পুকুর, মনসা মন্দির, কালী মন্দির, চত্বর ও লক্ষ্মীন্দরের ঘরসহ অসংখ্য স্থাপনা। দিগম্বরীর দিঘীটি শরীয়তপুরের অন্যতম পর্যটন এলাকা।
স্থানীয়দের মতে, যুগ যুগ ধরে এখানে সপ্তাহে দু’দিন শনি ও মঙ্গলবার হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার অনুষ্ঠান হয়। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ থেকে সপ্তাহ ব্যাপি পূজা পালন করা হয়। দেশ বিদেশের হাজারো দর্শনার্থী ও ভক্তরা উৎসবে অংশ নিতে ভিড় জমান এখানে। ভক্তদের বিশ্বাস, দিঘীর জলে স্নান করলে সব পাপ ও রোগমুক্তি ঘটে। মহিষারের মেলাই হলো শরীয়তপুরের সবচেয়ে বড় বৈশাখী মেলা।
দিগম্বরী সেবা সংসদের সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে অর্ধশতাধিক সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে পানি নিঃষ্কাশন করে হাজার বছরের পুরনো দিঘীটি পুনরায় খনন করা হয়। এসময়ে বেশকিছু দুর্লভ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায় সেখানে। এর মধ্যে রয়েছে ৪২ কেজি ওজনের একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি যা বর্তমানে জাতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এই স্থানটি সরকারি ও বেসরকারিভাবে সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তবে পুরোপুরি সংরক্ষিত হলে এটি প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা এবং পর্যটকদের আদর্শ স্থান হিসেবে জনপ্রিয়তা পাবে।
মহিষার গ্রামে এটি সবচেয়ে বড় দিঘী। অতিপ্রাচীন এই দিঘীর রয়েছে নানা রহস্যঘেরা ইতিহাস। জনশ্রুতি আছে, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা মৃত ব্যক্তির নামে চেহলাম অনুষ্ঠান করলে যে থালা বাসন ইত্যাদির দরকার হতো তার জন্য এই দীঘির পাড়ে এসে দিঘীকে নির্দেশ করে বলে গেলেই নাকি সকাল বেলা এসব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাড়ে এসে তৈরি থাকত।