আজ , , ,

নড়িয়ায় পুলিশের ভয়ে পালাতে গিয়ে ইতালি প্রবাসীর মৃত্যু

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পুলিশের ভয়ে পালাতে গিয়ে চাঁন মিয়া হাওলাদার (৪০) নামের এক ইতালি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
২২ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পন্ডিতসার দক্ষিণপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত চাঁন মিয়া হাওলাদার দক্ষিনপাড়া গ্রামের ফজল হক হাওলাদারের ছেলে। একই উপজেলার নলতা গ্রামের ইতালী প্রবাসী রুবেল সরদার ও নিতিরা গ্রামের তুহিন পেদার সাথে চাঁন মিয়ার ঝগড়া ও মারামারি হয়। সেই বিষয়ে নিহত চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় অভিযোগ হলে পুলিশ ঘটনা তদন্তে যায়। পুলিশ দেখে পালাতে গিয়ে পথিমধ্যে চাঁন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অসুস্থ চাঁন মিয়াকে ঘড়িসার বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁন মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করলেও পুলিশের দাবী চাঁন মিয়াকে তারা ধাওয়াও করেননি। পুলিশ দেখেই চাঁন মিয়া পালিয়ে যায়।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি চাঁন মিয়া ইতালী থেকে দেশে আসেন। সম্প্রতি চাঁন মিয়ার ইতালী প্রবাসী বন্ধু রুবেল সরদার (৪০) ও তুহিন পেদা (৩৫) দেশে ফিরেন। ইতালিতে চাঁন মিয়ার সাথে রুবেল ও তুহিনের ঝগড়া হয়। ইতালীর সেই ঝগড়ার জেরে গত ১৯ মার্চ সকালে চাঁন মিয়াকে নড়িয়া বাজারে পেয়ে রুবেল ও তুহিন মারধর করে। একই বিষয়ে ২১ মার্চ বিকেলে স্থানীয় ঘড়িসার বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে পুণরায় মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় রুবেল সরদারের স্ত্রী লিজা আক্তার চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ২২ মার্চ দুপুরে অভিযোগ তদন্তের জন্য নড়িয়া থানার পুলিশ চাঁন মিয়ার বাড়িতে যায়। পুলিশ দেখে দৌঁড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে চাঁন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে।
নিহতের ভাই কালু হাওলাদার দাবী করেন তার ভাই চাঁন মিয়াকে রুবেল, তুহিন ও পুলিশ মিলে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের বিচার দাবী করেন সে। চান মিয়ার সাথে কারো কোন শত্রুতা ছিলনা, রুবেল ও তুহিন মিলে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে বলে দাবী করেন চান মিয়ার স্ত্রী পায়েল বেগম।
নড়িয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক ইকবাল হোসেন বলেন, থানায় যে কোনো মামলা বা অভিযোগ হলে উর্Ÿতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে যাই। চাঁন মিয়ার বাড়িতে তদন্তে গেলে পুলিশ দেখে চাঁন মিয়া পালিয়ে যান। আমরা তাকে ধাওয়া করিনি।
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অবনি শংকর কর বলেন, পুলিশ দেখে পালিয়ে যান চাঁন মিয়া। আধা কিলোমিটার গেলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে ঘরিসার আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চাঁন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ চাঁন মিয়াকে ধরতেও পারেনি।

Share this news as a Photo Card


০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরে বেসরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পেল ১৯৭ শিক্ষার্থী

www.hongkar.com |
dailyhongkar