শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে মেয়ের জামাই সাইফুল খান (৩০) রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে বৃদ্ধ শাশুড়ি আমিরজান বেগমের হাত ভেঙ্গে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে শরীয়তপুর সদর পালং উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চর সোনামুখী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা জানা গেছে গত চার বছর পূর্বে মোছলেম খান একই গ্রামে আজিজ খানের পুত্র সাইফুল খান(৩০)এর সাথে তার মেয়ে সুমি আক্তার কে পারিবারিকভাবে বিবাহ দেন।
বিবাহের পর থেকেই স্বামী এবং তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সুমি আক্তার এর উপর অমানুষিক নির্যাতন করে আসছে। এই ঘটনার কিছুদিন পূর্বে যৌতুকের দাবিতে সাইফুল খান সুমি আক্তার কে মারপিট ও নির্যাতন করে।
এ বিষয়ে সুমি আক্তারের পিতা মোছলেম খান বাদী হয়ে পালং থানায় জামাই সাইফুল খান এর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পালং থানার এসআই রোমান তদন্ত সাপেক্ষে চর সোনামুখী ঘটনাস্থলে যায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কে ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার প্রস্তাব রাখেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে এস আই রোমান ঘটনাস্থল থেকে চলে আসলে মেয়ের জামাই সাইফুল খান এবং তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে রাস্তার উপর মোছলেম খানের স্ত্রী বৃদ্ধ আমিরজান বেগম কে একা পেয়ে জামাই ও তার পরিবারের সদস্যরা রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহতের স্বামী মোছলেম খান স্ত্রীর উপর হামলার বিচারের দাবিতে পালং থানায় মেয়ের জামাই সাইফুল খান, বিয়াই আজিজ খান (৫২), মোতালেব খান(৪০), সেলিম খান (৩৫), মাহিনুর বেগম (৩৫), রাজিয়া বেগম (৩৫) কে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
পালং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, আমিরজান বেগমকে মারপিটের অভিযোগ এনে একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।