সন্ত্রাসী তান্ডব ও মহিলাকে মারধরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি রোকনুজ্জামান পারভেজের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ১২টায় শরীয়তপুর পৌরসভার পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপার্শ্বের রাস্তায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। পালং মডেল থানা পুলিশ গুরুতর আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের সকল সংগঠন এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা প্রকাশ করেছেন। হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারও দাবী করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। আহত পারভেজ শরীয়তপুর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি।
আহত সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুরে রোকনুজ্জামান পারভেজ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন। হঠাৎ দোকানের সামনে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং গ্রামের আবুল কাশেম মাদবরের ছেলে নাজমুল মাদবর ও নাঈম মাদবরের নেতৃত্ব ২০/২৫ জন লোক এসে এক নারীকে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করছিল। আত্মরক্ষার্তে ওই নারী সাংবাদিক পারভেজের দোকানে ঢুকে পরে। তখন দোকানের ভিতরে ঢুকেও সন্ত্রাসীরা ওই নারীকে পিটাতে থাকে। তখন সাংবাদিক পারভেজ সন্ত্রাসীদের দোকান থেকে বের হতে বলে এবং মারপিটের ঘটনা ভিডিও ধারণ করে। এতে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পারভেজকে কিল-ঘুষি মারে ও রড দিয়ে পিটিয়ে ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এছাড়াও পারভেজের দোকানের ক্যাশে রাখা ও সঙ্গে থাকা নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় পারভেজকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে সন্ত্রাসী নাজমুল মাদবর ও নাঈম মাদবরের পিতা আবুল কাশেম মাদবর বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছু জানিনা। যদি আমার ছেলেরা এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। তাদের বিচার করা হোক।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, পারভেজকে আমার তত্ত্বাবধানে রেখেছি। মাথার নিচে ও ঘারে আঘাত রয়েছে। এই মূহুর্তে তার শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে কিছুই বলা যাচ্ছেনা।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অনল কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার ও শরীয়তপুর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান খান বলেন, একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতা পারভেজের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে সুপারিশ করব। জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করব।