শরীয়তপুরের সখিপুরে চরসেনসাস ইউনিয়নের পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী সোনিয়া বেগম (২৭) কে মুখ বেঁধে জবাই করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জুয়েল ভূঁইয়ার (৪০) বিরুদ্ধে।
বুধবার (৫ এপ্রিল) রাত ১ টার দিকে চরসেনসাস ইউনিয়নের চৌকিদার কান্দি গ্রামে জুয়েল ভূঁইয়ার বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় স্ত্রী সোনিয়া সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ ধরে সংসার করছে সোনিয়া জুয়েল দম্পতি। এর মাঝে তাদের পরিবারে এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। তবে স্বামী জুয়েল ভূঁইয়ার সাথে তার বড় ভাই ইতালি প্রবাসী সোহেল ভূঁইয়ার স্ত্রী ফেরদৌসি আক্তারের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবী করছে সোনিয়া।
এ কারণে তাদের স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া লেগে থাকতো। ঘটনার দিন রাতে দেরি করে ফিরার কারণ জানতে চাইলেই এলাকার বন্ধুবান্ধব ও দীন ইসলাম রাড়ী, কালা পেদা সহ কযেকজনকে নিয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী সোনিয়ার চোখ, মুখ বেঁধে ঘরের পিছনে সোয়ায়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে এবং বডি দা দিয়ে জবাই করে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। সোনিয়ার আত্মচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে জুয়েল সহ সকলেই পালিয়ে যায়। পরে আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
আহত সোনিয়া বলেন, ৪ বছর ধরে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন করতেছে আমার স্বামী জুয়েল। প্রায় যৌতুকের টাকা চায়। না দিলেই মারে। আমার ভাসুর সোহেলের বউ ফেরদৌসির সাথে তার পরকিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণে সংসারের উপর কোন রকম খেয়াল নেই। এর আগে আমাকে মারধর করেছে। সে বিষয়ে চেয়ারম্যান ও এলাকার মুরব্বীরা বিচার করলেও সুফল হয়নি। এখন গত বুধবার রাত একটা দিকে আমার স্বামী জুয়েল ভুইয়া, তার সাথে দীন ইসলাম রাড়ী, কালা পেদা, আইয়ুব আলী মাঝি, নুর ইসলাম রাড়ী ও ছোরাব রাড়ীকে নিয়ে এসে কোন কথা না বলেই আমার উপর চড়াও হয়ে আমার ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ফেলে। পরে কালা পেদা সহ সকলেই আমার হাতপা ধরে শুয়ায়ে ফেলে। পরে জুয়েল আমাকে মারতে থাকে ও ঘরে থাকা বডি দা এনে আমার গলায় ধরে জবাই করার চেষ্টা করে। আমি চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। এর পর দেখি আমি হাসপাতালে শুয়ে আছি।
ফেরদৌসি বলেন, জুয়েল আমার দেবর হয়। তার সাথে কি করে আমি সম্পর্ক করবো। তাছাড়া মারামারির ঘটনা আমি দেখি নাই। আমি আমার বাপের বাড়িতে আছি।
এবিষয় জুয়েল ভূঁইয়ার সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার রিং দিয়েও যোগাযোগ করা যায়নি
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ঐ নির্যাতিত নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।