বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পালের চরের ভূমিহীন ফয়জলকে বসত বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পায়তারা

পালের চরের ভূমিহীন ফয়জলকে বসত বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পায়তারা
ন্যায় বিচার প্রার্থী ফয়জুল দেরশালী ও তার পরিবার। ছবি-দৈনিক হুংকার।

পালের চর ইউনিয়নের ঢঙ্গী কান্দি মৌজায় ভূমিহীন হিসেবে সরকার বাহাদুর থেকে কবুলিয়ত দলিল মুলে এক একর জমির মালিক হয় ফয়জল দেরশালী। মালিকমূলে সেই জমিতে বসতবাড়ি-ঘর নির্মাণসহ মৌসুমী ফসল আবাদ করে আসছে সে। কিছুদিন ধরে সেই জমি থেকে বেদখল করার জন্য পায়তার করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে আবু আলেম মোল্যা ও আব্দুল খালেক মোল্যাগংদের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে একাধিক মামলা দিয়েও হয়রানী করা হচ্ছে বলে দাবী করেছে ভূমিহীন ফয়জল দেরশালী।
কবুলিয়ত দলিল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমিহীন হিসেবে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ফেদুল্লা বেপারীর কান্দি গ্রামের মৃত কুটি দেরশালীর ছেলে ফয়জল দেরশালীকে পালেরচর ঢঙ্গী কান্দি মৌজার ১/১ খতিয়ানের ৮৪ নং দাগ থেকে এক একর জমি সরকার বাহাদুরের পক্ষ থেকে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে সেই জমির কবুলিয়ত দলিলও দেওয়া হয় ফয়জল দেরশালীকে। ২০০১ সন থেকে সেই সম্পত্তির সরকারী খাজনাদিও পরিশোধ করে আসছে সে। বছর খানেক ধরে সেই জমিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে স্বপরিবারে বসবাসও করে আসছে ফয়জল। বর্তমানে আবু আলেম মোল্যাগংরা সেই জমি থেকে ফয়জল ও তার পরিবারকে বেদখল করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছে। ইতোমধ্যে আদালতে মামলা ও করেছে আবু আলেম।
এই বিষয়ে স্থানীয় আবুল কালাম আকন, শহীদুল ইসলাম বেপারী, মজিবর মাদবর জানায়, এই দাগে ৩ একর ৮৫ শতাংশ জমি রয়েছে। তার মধ্য থেকে আব্দুল খালেককে ১ একর ১৬ শতাংশ জমি বিআরএস রেকর্ড দেওয়া হয়েছে। এই দাগে অবশিষ্ট জমি ১/১ খাস খতিয়ানে সরকার বাহাদুরের নামে রেকর্ড হয়েছে। সরকার বাহাদুর ১/১ খাস খতিয়ান থেকে ফয়জল দেরশালীকে ১ একর জমি কবুলিয়ত দলিল দিয়েছে। এর পরেও এই দাগে অবশিষ্ট ৬৪ শতাংশ জমি রয়েছে। ফয়জল দেরশালী আবু আলেম মোল্যা ও আব্দুল খালেক মোল্যাদের রেকর্ডীয় জমিতে বাড়ি করেছে বলে দাবী করছে। এই বিষয়ে আমরা একাধিক দরবার শালিশীও করেছি। এখনও কোন সমাধানে আসতে পারিনি। শুনেছি এই বিষয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে।
সমাজপতি তাজেল মোল্যা বলেন, ফয়জল দেরশালী তার নামে বরাদ্দকৃত জমিতেই বড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। এখন বাঁধা সাদছে আবু আলেম মোল্যা। আবু আলেম মোল্যারা ফয়জলকে বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বে-আইনী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে তার ঘর থেকে একাধিকবার বৈদ্যুতিক মিটারও খুলে নিয়ে গেছে। জমি থেকে ফসল তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আবু আলেম মোল্যাদের ১.১৬ একর জমির বাহিরেই ফয়জলের ঘর। তবুও আবু আলেম মোল্যারা ফয়জলের জমি দাবী করে। দাবীর স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দরবার শালিশীতে উপস্থাপন করে না।
ফয়জল দেরশালী জানায়, ভূমিহীন হিসেবে ২১ বছর পূর্বে তাকে এই জমি বরাদ্দ দিয়েছে। সেই জমিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে। এখন আবু আলেম মোল্যারা তাকে বেদখল করার চেষ্টাসহ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। এই পর্যন্ত ৪টি মামলা দিয়ে হয়রানীও করতেছে তারা। তার জমি থেকে ফসল তুলে নিয়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবনের ঝুকিতে রয়েছে ফয়জল ও তার পরিবার। ইতোমধ্যে তার ঘর থেকে বৈদ্যুতিক মিটার ও খুলে নিয়েছে। বৈশাখ মাসের এই রমজানে বিদ্যুতের অভাবে খুব কষ্টে দিন যাপন করছেন তারা। জেলা প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকার চেয়েছে ফয়জল ও তার পরিবার।
এই বিষয়ে আবু আলেম মোল্যা বলেন, বিআরএস জরিপে আমাদের ১ একর ১৬ শতাংশ জমির রেকর্ড দিয়েছে। এসএ অনুযায়ী আরও বেশী জমি পাব। ফয়জল দেরশালী যে জমিতে বাড়ি করেছে তা আমাদের রেকর্ডীয় জমি। যেখানে খাস খতিয়ানের জমি আছে সেখানে গিয়ে ফয়জল ভোগ-দখল করলে আমাদের কোন আপত্তি নাই। ফয়জল আমাদের জমিতে জোর পূর্বক বাড়ি করেছে।
এই বিষয়ে পালেরচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঢঙ্গিকান্দি মৌজার ৮৪ নং দাগের ১/১ খাস খয়িানের জমি থেকে ফয়জল দেরশালীকে এক একর জমি কবুলিয়ত দলিল দেওয়া হয়েছে। ফয়জল সরকারী সকল পাওয়নাদিও পরিশোধ করে আসছে। নিজ নামে সেই জমি নামজারী না করে ফয়জল ভুল করেছে। পরে শুনেছি সেই জমি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। এখন আমাদের কিছুই করার নাই। তবুও ফয়জল আমাদের কাছে আসলে আইনী পরামর্শ দিব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।