শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের জন্য কৃষিই প্রধান হাতিয়ার: জেলা প্রশাসক

ডামুড্যায় কৃষি উপকরণ বিতরণ ও কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন মো: পারভেজ হাসান। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান বলেছেন, আমাদের সামনে অনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষিই আমাদের জন্য প্রধান ও একমাত্র ভরসা। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এক ইঞ্চি জমিও কোন অবস্থাতে খালি রাখা যাবে না। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ভর্তুকী সহ সব ধরণের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ধান সবজি ও মৌসুমী ফসল উৎপাদনের জন্য সরকার কৃষি ভর্তুকী প্রদান করছে। তিনি আরো বলেন, যাতে করে দেশে কোন ধরণের খাদ্য ঘাটতি না থাকে ।
সোববার (১৪ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় ডামুড্যা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষি উপকরণ বিতরণ ও কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক একথা বলেন।
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবা খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতলুবর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি হুমায়ুন কবির বাচ্চু ছৈয়াল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবলু সিকদার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার কর্মকার, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. সুবোধ কুমার দাস, ডামুড্যা পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার শেখ আজিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্যা, পূর্ব ডামুড্যা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ লিটন, সিড্যা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদী জিল্লু, শিধলকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল শেখ, ধানকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা রতন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারি কমিশনার ভূমি সবিতা সরকার।
প্রধান অতিথি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে মানবজাতি যখন সভ্যতার চরম শিখরে ঠিক তখনই জলবায়ু পরিবর্তনের করাল গ্রাস বিশ্বের অস্তিত্বকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। বৈরী জলবায়ুর প্রভাব মানবসভ্যতার জন্য আজ সবচেয়ে বড় হুমকি। জলবায়ু এ পরিবর্তনে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকায় খরার প্রকোপ বাড়বে।
বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা প্রকৃতি নির্ভর। ৭০ ভাগ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশে মোট উৎপাদনের প্রায় ২৪% আসে কৃষি থেকে। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪%। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো সবুজ বিপ্লবের ফলে তথা নানারকম ফসলের জাত উন্নয়নে গত ৫০ বছরে দানাশস্যের ফলন বেড়েছে কয়েকগুণ। উচ্চফলনশীল ধান ও গমের জাতের সূচনার ফলে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। প্রযুক্তি প্রয়োগে কৃষির অন্যান্য শাখা তথা পোল্ট্রি, গবাদিপশু ও মৎস্য চাষেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
কৃষি প্রধান বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় উন্নয়নে কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠিত ক্ষেত্র। বর্তমান সরকার জাতীয় শিক্ষানীতিতে পরিবেশ বান্ধব টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়নে কৃষি গবেষণা কার্যক্রমকে জোরদার করার ওপর যথার্থ গুরুত্বারোপ করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।