মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিদ্যুতে আলোকিত পদ্মা সেতুর নীচের দুর্গম চর

বিদ্যুতে আলোকিত পদ্মা সেতুর নীচের দুর্গম চর
জাজিরার পাইনপাড়ায় সাবমেরিন ক্যাবলের সাহায্যে নেয়া বিদ্যুতের উদ্বোধন করছেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। ছবিঃ দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবার বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সি কালু দেওয়ানের ১৭ শতাংশ জমি পদ্মা সেতুর জন্য অধিগ্রহন করা হয়েছিল। এরপর তিনি বসতি গড়েন পদ্মার দুর্গম চর পাইনপাড়ায়। তার টিনের বসত ঘরটি শনিবার বিদ্যুতের আলোতে ঝলমল করে উঠেছে।
৭০ বছর বয়সে প্রথম বিদ্যুতের আলো দেখে আনন্দিত কালু দেওয়ন বলেন, নদী ভাঙনে সহায়সম্বলহীন হয়ে পরি, এর পর শেষ সহায় সম্বল পদ্মা সেতুর জন্য নেয়ায় দুর্গম চরে উদ্বাস্ত জীবন পার করছি। শেষ জীবনে এসে বিদ্যুতের আলো পাব তা ভাবতেও পারিনি।
শনিবার শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার দুর্গম পদ্মা নদীর চর পাইনপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়েছে। পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ওই চরে বিদ্যুৎ নেয়া হয়েছে। শরীয়তপুর-১ আসনের সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জুলফিকার রহমান শনিবার সন্ধ্যায় তা উদ্বোধন করেন।
জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকা দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তার পাশেই পাইনপাড়া চরটির অবস্থান। চরটির চার দিক দিয়েই পদ্মা নদী। নৌ-পথ ছারা ওই চরে যাতায়াতের কোন ব্যবস্থা নেই। ১৫ বছর আগে ওই চরে জনবসতি গড়ে ওঠে। চরের চারটি গ্রামে ৭৫০টি পরিবারের বসবাস।
পদ্মা সেতুর পাশে নাওডোবায় অবস্থিত সেনাবাহীনীর ৯৯ কম্পোজিট বিগ্রেডের সাবষ্টেশন থেকে ১ কিলোমিটার পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পাইনপাড়ার চরে বিদ্যুৎ নেয়া হয়েছে। চরের চারটি গ্রামে ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন টানা হয়েছে। এ সকল কাজ করতে ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যায় করতে হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে।
শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জুলফিকার রহমান বলেন, পাইনপাড়ার চরে ৭টি চরের শনিবার ১৭৭ পরিবারকে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সাড়ে পাঁচশ পরিবারে সংযোগ দেয়া হবে। এ বছরের মধ্যে চরের সকল পরিবারকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে।
ওই চরের মাঝিকান্দি গ্রামের আজাহার মোল্যা ১৫ বছরে পাঁচ দফা নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। পরিবার নিয়ে পাইনপাড়ার চরে বসতি গড়েছেন। তিনি বলেন, কেরোসিনের কুপি আর হারিকেনের আলোতে ৫০ বছর কাটিয়েছি। এখন বিদ্যুৎ পেয়েছি। শেষ জীবনে এখন কিছুটা পরিবর্তন আসবে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রী কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে মাঠ পর্যায়ে আমরা কাজ করছি। প্রমত্তা পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে দুর্গম চরে বিদ্যুৎ নেয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা তা মোকাবেলা করে বিদ্যুতের আলো জেলে চরবাসীর মুখে হাসি ফুটিয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।