বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

নাওডোবায় জমি দখলের নামে ধান ও গাছের চারা নষ্ট করার অভিযোগ

Auto Draft
নাওডোবায় জমি দখলের জন্য ধান নষ্ট ও গাছের চারা উপরে ফেলছে প্রতিপক্ষরা। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবায় জমি দখলের নামে ধানক্ষেত নষ্ট ও গাছের চারা উপরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কাদির শেখ ও সেকান্দার শেখের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে জাজিরা থানায় একাধিক অভিযোগ করেছেন কাদির শেখের ভাতিজা ভুক্তভোগী সালাম শেখ। অভিযোগের ভিত্তিতে জাজিরা থানা পুলিশ কাদির শেখকে আটক করলে শর্ত সাপেক্ষে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পায় সে। ভূমি দস্যু হিসেবে কাদির শেখ ও সেকান্দার শেখের বিরুদ্ধে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক নারী ও পুরুষ উপস্থিত হয়ে তারা ভূমি দস্যুদের নির্যাতনের শিকার বলে দাবী করেছেন।
জাজিরা থানায় দাখিলকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা হাসেম মাদবরের কান্দি গ্রামের মৃত শাকিম আলী শেখের পুত্র হাসেম আলী শেখ স্বপরিবারে পশ্চিম নাওডোবা এলাকায় বসবাস করত। হাসেম আলী শেখের মৃত্যু পরবর্তী পদ্মা সেতু প্রকল্পে তার জমি অধিগ্রহণ করে নেয়া হয়। পরবর্তীতে হাসেম শেখের পুত্র সালাম শেখ তার পৈত্রিক বাড়ি পূর্ব নাওডোবায় চলে আসে। সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে চাচা কাদির শেখ ও সেকান্দার শেখ বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রাথমিকভাবে সালাম শেখ কিছু জমিতে ঘর তুলতে সক্ষম হলেও পিতার নামে রেকর্ডীয় অন্যান্য জমির দখল দেয়নি তার চাচারা। ২ মাস পূর্বে পিতার নামে রেকর্ডীয় অন্যান্য জমিতে সালাম শেখ ধান চাষ করে। সেই সময় তার চাচা কাদির শেখ ও সেকান্দার শেখ লোকজন নিয়ে সালাম শেখকে খুন করে লাশ গুমের হুমকি দেয়। এই বিষয়ে জাজিরা থানায় সাধারণ ডাইরী করে সালাম শেখ। পরবর্তীতে সেই জমিতে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গাছের চারা রোপণ করে সে। গত ৮ আগস্ট পুনরায় কাদের শেখ ও সেকান্দার শেখ তাদের লোকজন নিয়ে গিয়ে সালাম শেখের রোপনকৃত ধান নষ্ট করাসহ গাছের চারা ভেঙ্গে ও উপরে ফেলে। এই বিষয়ে পুনরায় সাধারণ ডাইরী করেছে সালাম শেখ। অভিযোগের ভিত্তিতে জাজিরা থানা পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে। পরবর্তীতে এই ধরনের অপরাধ করবেনা মর্মে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পায় অভিযুক্তরা।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী সালাম শেখ অভিযোগ করে বলেন, ৩০ বছর পূর্বে থেকে আমার পিতা আমাদের নিয়ে পশ্চিম নাওডোবা এলাকায় বসবাস করত। সেই জমি পদ্মা সেতু প্রকল্পে অধিগ্রহণ করে নেয়। পরবর্তীতে পূর্ব নাওডোবায় আমার পিতান নামে রেকর্ডীয় সম্পত্তিতে বাড়ি ঘর করে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেই। বাড়ি করতে আসলে চাচা কাদির শেখ ও সেকান্দার শেখ লোকজন নিয়ে বাঁধা দেয়। সকল বাঁধা অতিক্রম করে বাড়ি ঘর করি এবং জমিতে ধান ও গাছের চারা রোপন করি। এখন আমার চাচারা লোকজন নিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং ধান ও গাছের চারা উপরে ফেলেছে। পুলিশ কাদির শেখ ও সেকান্দার শেখকে ধরে থানায় নিয়ে গেলে এমন ঘটনা আর ঘটাইবেনা মর্মে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পায়। তার পরেও আমাকে জমি থেকে বেদখল করা সহ মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার কামনা করছি।
একই সময় ভুক্তভোগী আজাহার বেপারী, আবুল কালাম শেখ, হজরত আলী শেখ, মজিবর শেখ, সামাদ শেখ, কাশেম শেখ, আনু মাদবর সহ অনেকে জানায়, কাদির শেখ ও সেকান্দার শেখ এলাকায় ভূমি দস্যু নামে পরিচিত। তারা প্রভাব খাটিয়ে লোকজন নিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখল করে ভোগ দখল করে। অনেক সময় ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি বিক্রিও করে দেয়। এদের জুলুম থেকে মুক্তি চায় এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে কাদির শেখ ও সেকান্দার শেখ বলেন, ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি বন্টন ও বাটোয়ার করে তারা ভোগ দখল করছে। বিআরএস রেকর্ডে ভুল বসত সেই জমি সালাম শেখের পিতার নামে রেকর্ড হয়। রেকর্ড সংশোধনের জন্য আমরা আদালতে মামলা করছি। অন্যান্যরা সালাম শেখের দলীয় লোক তাই আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে। আমরা এলাকায় ভূমি দস্যুতার কোন ঘটনা ঘটাই নাই। সালাম লোকজন নিয়ে আমাদের হুমকি দেয়ায় আমিও থানায় সাধারণ ডাইরী করেছি। তবে সাধারণ ডাইরীর স্বপক্ষে কোন প্রমান দেখাতে পারেনি কাদের শেখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।