মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পদ্মায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরেক শিশুর লাশ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ দুইজন

পদ্মায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরেক শিশুর লাশ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ দুইজন

শরীয়তপুরের জাজিরায় মাঝিরঘাট-শিমুলিয়া নৌপথে ট্রলার ডুবির ঘটনায় খাদিজা আক্তার নামে আড়াই বছর বয়সের আরেক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত রাত ১টার দিকে জাজিরার বাবুরচর এলাকার পদ্মা নদীর চর থেকে ওই শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেন নৌপুলিশ সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার বিকালে পদ্মা নদীর পৈলান মোল্যাকান্দি এলাকায় ১৬ যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় আব্দুর রহমান আকন (৭০) নামের এক মুক্তিযোদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়।
খাদিজা আক্তার বরগুনা জেলার পাতাকাটা গ্রামের বজলু মিয়ার মেয়ে। সে পরিবারের সদস্যদের সাথে ওই ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল। রাতেই উপজেলা প্রশাসন তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে।
ওই ট্রলার দুর্ঘটনার ঘটনায় ইমাম হোসেন (২৫) ও রমজান আলী (৬) এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানের জন্য কাজ করছে নৌপুলিশ, কোষ্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। শুক্রবার দিবাগত রাতে বাবুরচর এলাকায় ওই শিশুর মরদেহ দেখতে পায় জেলেরা। তখন তারা ৯৯৯ ফোন করে প্রশাসনকে জানায়।
জাজিরা উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বৈরি আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলমাঝির ঘাট-শিমুলিয়া নৌপথে সকল ধরণের নৌযান বন্ধ ছিল। এ কারণে বৃহস্পতিবার কয়েকজন ব্যক্তি জাজিরার পালেরচর এলাকা থেকে একটি মাছ শিকারের ট্রলারে করে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছিলেন। বিকাল ৪টার দিকে ১৬ যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি পালেরচর ঘাট থেকে ছেরে যায়। ৫টার দিকে পদ্মা নদীর মাঝে প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কবলে পরে ট্রলারটি ডুবে যায়। স্থানীয় বিভিন্ন নৌযানে ১২ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে ৬ জনকে চিকিৎসার জন্য জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। আর নৌপুলিশ ওই দিন সন্ধ্যার দিকে বাবুরচর এলাকা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান আকনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল। ওই ব্যক্তি জাজিরার ফকির মাহমুদ আকনকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকা যাচ্ছিলেন।
গত ৪ মে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে স্পিডবোটের সাথে বালু বোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কায় ২৬ ব্যক্তি প্রান হারান। এর পর ওই নৌপথ সহ মাঝিরঘাট-শিমুলিয়া নৌপথে স্পিডবোট ও ট্রলারে যাত্রী পারাপার বন্ধ করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু ঈদের চার দিন আগে থেকে ট্রলারে করে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছিল। এ কারণে পুণরায় ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটল।
জাজিরার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশ্রাফুজ্জামান ভূইয়া বলেন, একটি মাছ শিকারের ট্রলারে করে যাত্রীরা পদ্মা পারি দিচ্ছিলেন। প্রশাসনের নজর এরিয়ে ট্রলারটি যাত্রী পারাপার করছিল। ওই ট্রলারের মালিক ও চালককে চিহ্নিত করতে পারা যায়নি। আর নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে কাজ করছে প্রশাসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।