বুধবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
বুধবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জাজিরায় মাদ্রাজী ওলকচু ও গাছ আলুর চাষ শুরু

Auto Draft
জাজিরায় আবাদকৃত ওলকচুর খেত। ছবি-দৈনিক হুংকার।

সরকারি সহায়তায় উপজেলা কৃষি বিভাগের বাস্তবায়নে জাজিরায় ব্যাপকভাবে কন্দ তথা কচু জাতীয় ফসলের আবাদ শুরু হয়েছে।
জানাগেছে, মানুষের প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় কন্দ তথা কচু জাতীয় ফসলের সংযোজন ঘটাতে এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করণের পাশাপাশি আমদানি বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কন্দ ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম বারের মত জাজিরাতে ওলকচু ও গাছ আলুর চাষ শুরু করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থ বছরে উপজেলায় ৫ জন কৃষকের মাধ্যমে মাদ্রাজী ওলকচু এবং দুইজন কৃষকের মাধ্যমে গাছ আলু চাষ শুরু হয়েছে।
ওলকচু চাষী বড়কান্দি ইউনিয়নের ডুবিসায়বর গ্রামের কাজি ফারুক বলেন, ওলকচু আগে করিনাই কৃষি অফিস থেকে কইছে ভাল হবে দামও পামু তাই করছি, এহন পর্যন্ত দেখতে ভালই লাগছে আশা করি এর ফলন ভাল হবে। খরচ খুব সীমিত ঝামেলাও কম এবার লাভ পেলে আগামীতে আমি সহ অন্যান্য কৃষকরাও করবো।
ওলকচু প্রকল্প বাস্তবায়নের তদারকি করে যাচ্ছে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, জাজিরায় কন্দ জাতীয় ফসলের চাহিদা আছে কিন্তু উৎপাদন তেমন নেই তাই আমরা এই বছর ওলকচু, গাছ আলু সহ পানি কচু ও মুখী কচু লতির প্রদর্শনী অফিস থেকে দেয়া হয়েছে যেখানে রোপণ থেকে শুরু করে নিয়মিত বিভিন্ন কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি যাতে কৃষক ভাল ফলন ও দাম পায়। জাজিরাতে বর্তমানে নানা ধরণের নিত্য নতুন ফসলের জাত ও প্রযুক্তি বিস্তারে উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় অনেক কাজ করে যাচ্ছে যার সুফল জাজিরার মানুষ ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছে।
জাজিরা উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জামাল হোসেন বলেন, দেশে কন্দ জাতিয় ফসলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে কিন্তু উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কম সে বিষয় নিয়ে সরকার দেশে কন্দ জাতিয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ফলে আমরা এই ওলকচু, গাছ আলুর মত অপ্রচলিত অথচ উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিতে পেরেছি এর ফলে এর দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে কোরিয়া, জাপান সহ অন্যান্য দেশে ও যা রপ্তানি করা সম্ভব হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা এই ফসল উৎপাদন করতে কৃষকের খরচ পরে কম লাভ বেশি। কারণ এই সব কচু জাতীয় ফসল বাজারে আসে এমন একটা সময়ে যখন অন্যান্য সবজি তেমন একটা থাকে না ফলে সবাই কিনতে পারে এবং এটি নিরাপদ কারণ বালাইনাশক ব্যবহার নাই বললে চলে। জাজিরাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে এ বছর ওলকচু, গাছ আলু ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি কচু, লতি কচু, মুখী কচু, আলু, মিষ্টি আলু সহ নানা কন্দ জাতীয় ফসলের উৎপাদন করতে প্রদর্শনী স্থাপন সহ কৃষক কৃষানী প্রশিক্ষণ এবং মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষক সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ওলকচু ও গাছ আলুতে রয়েছে উপকারী আশ ছাড়াও শর্করা ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ লবন। কচু জাতীয় ফসলের উৎপাদন খরচ কম এবং বসত বাড়ির আশাপাশে কম উর্বর জায়গায়ও চাষ করা যায়। চাষে বিষ প্রয়োগ করতে হয় না বলেই চলে এবং বাজারে এর ভাল চাহিদা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।