রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দুই বোনকে প্রভাবশালীদের বেধড়ক মারধর

দুই বোনকে প্রভাবশালীদের বেধড়ক মারধর
প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ডালিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাত জাহান ইতি (২২) ও ডালিয়া আক্তার (২৮) নামের দুই বোনকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ মার্চ) দুপুরে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী ইতি।
এর আগে গত ১৭ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বিকেনগর পূর্ব কাজী কান্দি গ্রামে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকেনগর পূর্ব কাজী কান্দি গ্রামের নুর ইসলাম মাদবর গংয়ের সঙ্গে একই বংশের ইসরাত জাহান ইতির পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মার্চ বিকেলে ইতি গংদের জমি দখল করে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নূর ইসলাম গংরা। এ ঘটনা শুনে ইতি, তার ১৪ মাসের ছেলে সায়ান আহম্মেদ ও তার বড় বোন ডালিয়া কে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে দুই পক্ষ এক যায়গায় বসে। তখন ইতিদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন নুর ইসলাম গংরা। প্রতিবাদ করলে নুর ইসলাম মাদবর (৫৫) এর নেতৃত্বে নূরুল আমিন বয়াতী, ইউসুফ আলী মিসু (২৭), ইদ্রিস মাদবর (৫০), কামরুন্নাহার বেগম (৫০) মিলে ইতিকে রড দিয়ে পিটিয়ে বাম হাত ভেঙে দেন। ইতিকে তার বোন ডালিয়া উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসলে তাকেও কিল-ঘুষি মারে এবং ইট ও রড দিয়ে তাকে জখম করেন। ছোট সায়ান আহম্মেদকে কোল থেকে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেন। এসময় ইতি ও ডালিয়ার শ্লীলতাহানিও করেন আসামিরা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নির্যাতনের শিকার ইসরাত জাহান ইতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সম্পত্তি দখল করার পায়তারা করছেন নুর ইসলাম, নুরুল আমিন, ইউসুফ, ইদ্রিস, কামরুন্নাহাররা। প্রতিবাদ করলে আমাকে, বড় বোন ডালিয়া ও ছেলে সায়ানকে মারধর করেন তারা।
এ ঘটনায় জাজিরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মিমাংসা করার কথা বলে। মিমাংসা হব না বলে পাঁচদিন পর গত ২২ মার্চ পুলিশ আমাকে থানায় ডেকে নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করায়। অভিযোগে প্রধান আসমী নূর ইসলাম মাদবরকে বাদ দিয়ে দেয়। তাই সঠিক বিচার পেতে আদালতে মামলা করেছি।
এদিকে, অভিযুক্ত নুর ইসলাম মাদবর এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘নো, নেভার। আমি এ বিষয়ে বক্তব্য দেব না। আমার বক্তব্য নিতে হলে থানা থেকে পারমিশন নিয়ে আসেন।
ইতির স্বজনরা জানান, তাদের কোমরে, রানে, হাতে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক আঘাতের দাগ রয়েছে।
বিকেনগর পূর্ব কাজী কান্দি গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন, আল ইসলামসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুই বোনকে নির্যাতন করার সময় ঘটনাস্থলে তারাও ছিলেন। ইতি ও ডালিয়াকে বেধড়ক মারপিট করেছে নূর ইসলাম গংরা। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করেন।
বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। সালিশে বসে বিষয়টি দেখার জন্য উভয় পক্ষকে বলেছিলাম। কিন্তু তারা আইনের মাধ্যমে লড়বেন।’
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, দুই নারীকে বেধড়ক মারধর করেছে প্রতিপক্ষ। কারণ ওদের অভিভাবক নেই। ঘটনা শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।