শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শত্রুতার জেরে জাজিরায় ১৬টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুট

শত্রুতার জেড়ে জাজিরায় ১৬টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুট
শত্রুতার জেরে জাজিরায় ১৬টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুট

করোনা ভাইরাস মহামারি যখন সারাবিশ্বকে ভীত করেছে ঠিক তখনই শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ছোট মুলনা গ্রামের মিলন মাদবর সামাজিক ও পূর্ব শত্রুতা উদ্ধারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম রমজানের দিন (২৫ এপ্রিল শনিবার) সকাল থেকেই তিনি এলাকার ১৬টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। বাঁধা দেয়ায় চার জনকে আহত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে মিলন মাদবর ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। আত্মরক্ষার্থে বাড়ি-ঘরে ভাংচুর করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মিলন মাদবরের চাচা আ. হামিদ মাদবর। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছোট মুলনা গ্রামের মিলন মাদবর ও গনি মাদবর সমাজের মধ্যে পূর্বের থেকেই জমিজমাসহ সামাজিক বিরোধ চলে আসছে। বিগত দিনে উভয় সমাজের লোকেরা গনি মাদবরের সমাজে একই জামাতে তারাবিহ নামাজ পড়ত। এই বছর রমজানের পূর্বেই মিলন মাদবর আলাদা ইমাম নিয়োগ করে তার সমাজে তারাবি নামাজ পড়া শুরু করে। ২৪ এপ্রিল শুক্রবার প্রথম তারাবির নামাজ মিলন মাদবরের সমাজে অনুষ্ঠিত হয়। সেই নামাজে গনি মাদবরের সমাজের লোকজন অংশগ্রহন না করায় শনিবার সকাল থেকে গনি মাদবরের সমাজের মানুষের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে মিলন মাদবরের সমাজের লোকেরা। এই হামলা থেকে প্রতিবন্ধির ঘরও বাদ পরেনাই। এই সময় হাবেজ খা, আহাম্মদ খা, আনোয়ার খা, ইছব আলী মাদবর, সোয়াব আলী মাদবর, গনি মাদবর, নুর জামাল মাদবর, নুর ইসলাম মাদবর, দিলু মাদবর, দিলু বেপারী, নুরু দেওয়ান, ফারুক দেওয়ান, লাল মিয়া দেওয়ান, আবু কালাম বেপারী, আবু ছালাম বেপারী, জলিল খার বাড়িতে ভাংচুর করা হয়। তখন ইছব আলী মাদবরের ঘরে প্রবেশ করে ফ্রিজ, টিভি ও আসবাবপত্র ভাংচুরসহ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছেন বলেও ওই পরিবারের দাবি।
প্রতিবন্ধির মা ফুলমতি বলে, আমার ছেলে প্রতিবন্ধি। আমার ঘর যখন ভাংচুর করে তখন প্রতিবন্ধি ছেলেটা তাকিয়ে দেখেছে। প্রতিবাদ দূরের কথা কোন কথাও বলতে পারে নাই। আমার ঘরে কেন হামলা ও ভাংচুর করা হলো। আমরাতো কারোর কোন ক্ষতিও করতে পারি না। আমরা কোন দলবলেও যাই না। এই বিচার কে করবে।
ইছব মাদবরের মেয়ে ঝর্ণা জানায়, আমরা গনি মাদবরের সমাজে বসবাস করি। শনিবার সকাল ৯টা থেকে মিলন মাদবর তার সমাজের লোকজন নিয়ে এসে গনি মাদবরের সমাজের লোকদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর শুরু করে। এক পর্যায়ে আমাদের ঘর কোপায় এবং দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে টিভি-ফ্রিজসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। হামলাকারীদের অনেকে আমার একমাত্র ভাই সুজনকে মারার জন্য খোঁজাখুজি করে। আমার মা ও ৮ বোন মিলে একমাত্র ভাই সুজনকে আগলে রাখার চেষ্টা করি। এর মধ্যে থেকেও মিলন মাদবর ও তার লোকজন সুজনের উপর হামলা করে। আমরা খুব অসহায়। আমার ভাইকে অন্যত্র পাঠাইয়া দিয়েছি। আগামী কোরবানির জন্য আমরা একটা ষাড় গরুর পুষতেছি সেই গরুটা নেয়ার জন্য মিলন মাদবর ও তার লোকজনেরা চেষ্টা করতেছে। মিলন মাদবরের কাছে আমরা খুব অসহায়।
স্থানীয় লাল মিয়া দেওয়ান বলেন, মিলন মাদবর ও গনি মাদবর বিগত দিনে একই সমাজে ছিল। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে সামাজিক ও জমিজমার বিরোধ ছিল। এই বছর মিলন মাদবর আলাদা সমাজ গড়ে সেখানে তারাবির নামাজ পড়ার জন্য ইমাম রাখছে। এই দিকে গনি মাদবরও তার সমাজে ইমাম নিয়োগ করেছেন তারাবির নামাজ পড়ার জন্য। দুই সমাজ থেকেই আমাদের দাওয়াত করেছে। প্রথম দিন আমরা কোন সমাজের মসজিদে যাই নাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন মাদবর প্রথম রোজার দিন সকাল থেকেই গনি মাদবরের সমাজের লোকদের উপর হামলা চালায় এবং বাড়ি-ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করে। উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
হামলায় শিকার রেহানা বেগম জানায়, মিলন মাদবর এলাকায় অন্যায় ভাবে খুব ক্ষমতা চালায়। কারনে অকারেন মানুষকে নির্যাতন করে। এই এলাকায় চাঁদনি নামে এক স্কুল ছাত্রিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে। সেই মামলায় মিলন মাদবর আসামী ছিল। এক মাত্র এমপি সাহেব ছাড়া মিলন মাদবরকে কেউ থামাতে পারবে না। মিলন মাদবরের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এমপির কাছে আমরা আবেদন করছি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে বা মোবাইল ফোনে মিলন মাদবরের সাথে সাক্ষাত করা সম্ভব হয় নাই। ঘটনাস্থল থেকে মিলন মাদবরের চাচা আ. হামিদ মাদবর বলেন, আহাম্মদ খা ও রতনের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল। আমার ভাই ছালাম মাদবর অটোবাইক নিয়ে রাস্তায় বের হয়। তখন আহাম্মদ খার লোকজন আমার ভাইর অটোবাইক ভাংচুর করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়ির দিকে আগায়। আমরা বাঁধা প্রদান করি এবং আত্মরক্ষার্থে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করে তাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করেছি। এই কথা আমি ওসির কাছে বলেছি আপনাদের কাছেও বললাম প্রয়োজনে এসপির কাছে একই কথা বলব। আমাদের পক্ষের দুই জন আহত হয়েছে। তাদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জাজিরা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ছোট মুলনা লোকায় বাড়ি ঘরে ভাংচুরের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। ঘটনার সত্যতা রয়েছে। উভয় পক্ষে আহত হয়েছে। কোন পক্ষথেকে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় নাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।