মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত জাজিরার কৃষকরা

আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত জাজিরার কৃষকরা। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের শস্য ভান্ডারখ্যাত জাজিরা উপজেলার কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যার কাজে। আগাম সবজি আবাদে তুলনামুলক বেশি দাম পাওয়া যায় বলে জাজিরার কিছু কিছু অঞ্চলের কৃষকরা প্রতি বছরই আগাম সবজি আবাদ করে থাকেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলনেরও আশা করছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
জাজিরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জামাল হোসেন জানায়, এ বছর জাজিরা উপজেলায় ১ হাজার ৭শ’ ১০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলায় ৬’শ ৫০ হেক্টরে আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাল শাক, বেগুন, করলা, শশা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনে পাতা, সীম,ধুন্ধলসহ নানা জাতের সবজি। কৃষক’কে সবজি আবাদে বিভিন্ন পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগন সার্বক্ষণিক মাঠে আছেন। তবে উপর্যপুরি বন্যার কারণে এ মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজি আবাদে কিছুটা বিলম্ব হলেও মাঠে বিভিন্ন সবজির বর্তমান অবস্থা ভালো থাকায় এবারও কৃষকরা লাভবান হবে বলে আমরা আশাবাদি।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বন্যার পানি জমি থেকে নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই বেশি দাম পাওয়ার আশায় আগাম শীতকালিন সবজি আবাদ করেছেন জাজিরার কৃষকরা। তবে এবার উপর্যপুরি ও দীর্ঘায়িত বন্যার ফলে গত বছরের তুলনায় ২০-২৫ দিন বিলম্ব হয়েছে বলে বলছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনকূলে থাকায় এবং সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় সবজির চারার অবস্থা অনেকটাই সতেজ আছে বলে জানান কৃষকরা। তাই কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি না হলে ভালো ফলন ও বেশি লাভের আশা করছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের মিরাসার গ্রামের কৃষক মো: কুদ্দুস বেপারী বলেন, আমরা প্রতি বছরই বেশি দাম পাই বলে শীতকালীন আগাম সবজি আবাদ করি। বিঘাপ্রতি বেগুন, শশা ও করলা আবাদে আমাদের ২৫-৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি বিক্রি হয় ১ দেড় লক্ষ টাকা। সার ও বীজ সহজলভ্য হওয়ায় ও আবহাওয়া ভালো থাকায় সবজির চারার অবস্থা খুবই ভালো মনে হচ্ছে। কোন প্রাকৃতিক সমস্যা না হলে ভালো ফলনের আশা করছি। ফলন ভালো হলে বন্যার কারনে যে বিলম্ব হয়েছে তাতে আমাদের কোন অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।