মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

জাজিরায় ৩৮৪ বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি বাগান

জাজিরায় ৩৮৪ বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি বাগান

কৃষকদের আপ্রাণ চেষ্টা, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামশ্যে এক মাসের ব্যবধানেই জাজিরার ৩৮৪ জন কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনায় তৈরী করা সবজি বাগানের সবজি ফুল আর ফসলে কৃষকের মনে দোলা দিচ্ছে।
করোনা পরবর্তী দূর্যোগ মোকাবেলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে খরিপ-১/২০২০-২১ মৌসুমে সরকারি কৃষি প্রনোদনায় গত জুন মাসে ২০ তারিখ থেকে জাজিরা উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সরকারের ১০ লক্ষ ১ হাজার ১৮৪ শত টাকায় এ সব সবজি বাগান স্থাপন করা হয়। কালিকাপুর মডেল অনুসারে সারা বছর সব্জি উৎপাদন করার জন্য প্রতিজন কৃষককে ১৩ প্রকারের সব্জির বীজ, সাইনবোর্ড, সার ও পরিচর্যা বাবদ নগদ ১ হাজার ৯ শত ৩৫ টাকা করে মোবাইল একাউন্টে দেওয়ারহয়।
এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১২ ইউনিয়নের প্রতি ইউনিয়নে ৩২জন করে কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি বাগান সৃষ্টি করা হয়েছে।
প্রতিটি বাগানের ৫টি বেডে এখন লালশাক, পালংশাক,গিমাকলমিশাখ,মরিচ, টেরশ,বেগুন,ধনেপাতা আর বেডের বাহিরে মাচায় ঝুলছে লাউ, সীম,বরবটি,পেপে, জালি কুমড়া ও শশা গাছ।
জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের কৃষক ছাত্তার হোসেন জানান, বর্ষা মৌশুমে আমরা তেমন কোন সবজি আবাদ করিনা। এবার আমাদের এলাকার কৃষি স্যার এসে বল্লো বাড়ির ভিতরে সবজি চাষ করেন সরকার আপনাদের সহায়তা দিবে। তার কথায় আমি বাগান করেছি। আমার বাগানের ভিতরের বেডে লালশাক, পুইশাক, কলমিশাক মরিচ ও ধনেপাতা বুনেছি। আর বেডের বাহিরের মাচায় জালি কুমরো ও শশা করেছি। আল্লাহর রহমতে ভেশ ভাল ফসল হয়েছে। আমার পরিবারের চাহিদা পুরণ করে আমি বাজারে বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।
মানিকনগর গ্রামের কৃষক সীমা আক্তার বলেন, আমি বাড়ির আঙ্গিনায় চাষাবাদ করি কিন্ত পরিকল্পিত ভাবে এবারই চাষ করেছি। তাতে ফলাফল ও ভাল হয়েছে। সরকারি ভাবে ১৩ প্রকারের বীজ ও সার পেয়েছি, একটি সাইনবোর্ড দিয়েছে। এ ছারা নগদ ১ হাজার ৯ শত ৩৫ টাকা পেয়েছি।
উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন,আমি আমাদের স্যারের নির্দেশে সরকারে আদেশ প্রত্যক্ষ ভাবে পালন করে বাগান গুলো করেছি। প্রতিটি বাগানই এখন শাক সবজিতে পরিপুর্ন হয়ে উঠেছে। এভাবে সবাই আন্তরিকতার সাথে কাজ করলে তাতে আল্লাহ রহমত ও পাওয়া যায়। তারই প্রমান হচ্ছে আমাদের সরকারি প্রনোদনার বাড়ির আঙ্গিার সবজি বাগান।
জাজিরা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ জামাল হোসেন বলেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা দূর্যোগের পরবর্তী দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন। শুধু নির্দেশনা দিয়েই তিনি থেমে থাকেননি তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। যাতে করে কৃষক সময় মতো উৎপাদনে যেতে পারে। গত এক মাস ধরে কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন নিজেদের ইউনিয়নে প্রতিটি বাগানে সঠিক তদারকির মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। আল্লাহর রহমতে আমাদের উপজেলার প্রতিটি বাগানই এখনসই সাথে দেশে খাদ্যা চাহিদাো পুরণ হবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।