শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২০ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ রজব ১৪৪৪ হিজরি
শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বাজারে সারা ফেলেছে জাজিরার রঙ্গিন ফুলকপির

সবজি হাতে নিজ জমিতে কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া। ছবি-দৈনিক হুংকার।

সাদা রঙ্গের ফুলকপির সাথে আমরা দীর্ঘদিন পরিচিত হলেও শরীয়তপুরের স্থানীয় বাজারে এখন পাওয়া যাচ্ছে হলুদ ও বেগুনী রং এর ফুলকপি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিএসের সহযোগিতায় এ কপির নতুন জাত জেলার বাজারে নিয়ে এসেছে জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন চরখোরাতলা গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া।
অধিক স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর নতুন এই জাতের ফুলকপির প্রতি জেলার মানুষের আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ছে। সাদা রঙ্গের ফুলকপির তুলনায় কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি হলেও বাজারে আসামাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে নতুন জাতের এ কপি।
ক্রেতাদের অভিযোগ বাজারে চাহিদার তুলনায় এ কপির পর্যাপ্ত জোগান দিতে পারছেনা চাষীরা তাই অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
জানা যায়, স্থানীয় বেসরকারি উন্ননয়ন সংস্থা এসডিএস’র সমন্বিত কৃষি ইউনিটের আওতায় শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন চরখোরাতলা গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া রঙিন জাতের এই ফুলকপির চাষ করেন। এই বছর পরীক্ষামূলক ভাবে তিনি তাঁর ১০ শতক জমিতে প্রায় ১০০০ টি রঙিন জাতের ফুলকপির চারা রোপন করেন। চারা রোপনের ৬৫ দিনের মধ্যে হলুদ জাতের ফুলকপি বিক্রি উপযুক্ত হয়। বাজারে এক একটি হলুদ ফুলকপি ৫০-৭০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সবজি চাষী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হলুদ বা বেগুনী জাতের ফুলকপি চাষ করার জন্য আলাদা কোন জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। সাদা ফুলকপি যেভাবে চাষ করতে হয় সেভাবে হলুদ ফুলকপিও চাষ করা যায়। এবার প্রথমবার আমি এসডিএস’র খাজি আলম ভাইয়ের সহায়তায় ১০ শতক জমিতে এই ফুলকপি চাষ করি। এতে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয় আর আমি ফুলকপি বিক্রি করেছি প্রায় ৫০ হাজার টাকা। সবমিলে ১০ শতক জমিতে ফুলকপি করে আমার প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো লাভ হয়েছে। প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে ফুলকপির ক্ষেত দেখতে অনেক মানুষ আসে। তবে বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় দ্রুতই আমার ক্ষেতের ফুলকপি শেষ হয়ে গেছে। আগামী বছর আরও ব্যাপকভাবে হলুদ রঙের এই ফুলকপির চাষ করতে চাই আমি।
একই ইউনিয়নের খোরাতলা গ্রামের অপর সবজি চাষী শাহাজাহান মাদবর বলেন, হলুদ ফুলকপি দেখতে অনেক সুন্দর এবং বাজারেও এর চাহিদা বেশি। সাদা ফুলকপির তুলনায় বাজারে হলুদ রঙের এক একটি ফুলকপি ১০-১৫ টাকা কেজিতে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এসডিএস বীজ দিয়ে সহযোগিতা করলে আগামী বছর এ জাতের ফুলকপির চাষ করার ইচ্ছা আছে আমার।
এসডিএস এর কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ খাজি আলম বলেন, পিকেএসএফ এর সমন্বিত কৃষি ইউনিটের সহযোগিতায় এ অঞ্চলে ব্রোকলি, লেটুস, রেড বিট, রেড ক্যাবেজ, স্কোয়াস, ক্যাপসিকামের চাষ করা হচ্ছে। এ বছর সর্বপ্রথম আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়াকে হলুদ ও বেগুনি রঙ্গের ফুলকপির বীজ দেওয়া হয়। হলুদ ফুলকপি বিক্রি শেষ হলেও বেগুনী ফুলকপি বিক্রি হতে আরো সাত দিন সময় লাগবে। আমরা কৃষককে ফুলকপি চাষে সবধরণের পরামর্শ দিয়ে থাকি। রঙ্গিন ফুল কপিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুকি হ্রাস করে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় আমরা আশা করছি, আগামীতে এ অঞ্চলে রঙিন ফুলকপির চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জামাল হোসেন বলেন, জাজিরা উপজেলা বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষের জন্যে সমৃদ্ধ তারই ধারাবাহিকতায় এবছর প্রথম বারের মত কালার ফুল কপি চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় এর সার্বিক পরামর্শ ও স্থানীয় একটি এনজিও এসডিএস এর উদ্যোগে এটি বাস্তবায়িত হয়েছে। স্বাভাবিক ফুল কপির চেয়ে এই কালার ফুলকপিতে এন্টিঅক্সিডেন্ট, এন্থসায়ানিন এবং বিটা ক্যারটিন প্রায় ২৫% বেশি থাকে। ফলে পুষ্টি মান অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে যা মানুষের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার এর মত রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এই বছর পরীক্ষামূলক ভাবে আমাদের উপজেলা মোট ১ একর জমিতে এ জাতের চাষ হয়েছে। আশ করা যায় ভবিষ্যতে এটি আরো সম্প্রসারিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।