রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ রজব ১৪৪৪ হিজরি
রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

জাজিরায় জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করে জমি বিক্রি

জাজিরায় জালিয়াতি করে জমি বিক্রির দায়ে আটক সোহেল আহম্মেদ খান। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানার বিচক্ষণতায় এক জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) জালিয়াত গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃত প্রতারকের নাম সোহেল আহম্মেদ খান (৬৭) তার পিতার নাম আফতাব উদ্দিন খান। সে ঢাকার শ্যামপুর ফরিদাবাদ এলাকার ঢালকা নগরের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সোহেল আহম্মেদ খানের মায়ের নাম জোবেদা খাতুন। কিন্তু সে তার মায়ের নাম জালিয়াতি করে মাজু বিবি নামে একজনের ছেলে দাবী করে এবং তার স্বপক্ষে কিছু জাল কাগজ বানিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিকে নগর কেয়ামুদ্দিন বাজার এলাকার মৃত কলম সরদারের ছেলে বাবুল সরদারের কাছে ২০১৯ সালের (২৭ আগস্ট) জাজিরা উপজেলা সাব- রেজিস্ট্রি অফিসের ৩৩১২ নং হেবা দলিল মূলে বিক্রি করে দেয়।
মাজু বিবির ছেলে সেজে বিক্রি করা ৯৮ নং বড় কৃষ্ণ নগর মৌজার এস.এ ৩৬২ নং খতিয়ানের এস.এ ১১১৮৪, ১১২৩৪ ও ১১২৫৪ নং দাগ থেকে বাবুল সরদারের ক্রয়কৃত ১০৮ শতাংশ জমি দখলে গেলে সেখানে সমস্যার সৃষ্টি হয়। যার ফলে বাবুল সরদার ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য গত (২৮ নভেম্বর) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ করেন।
অভিযোগটি জাজিরা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করতে গিয়ে তার সন্দেহ হলে এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন থেকে বিক্রেতার জাতীয় পরিচয় পত্র যাচাই করে দেখেন বিক্রেতা সোহেল আহম্মেদ খান তার মায়ের নাম জালিয়াতি করেছে। জালিয়াতি করে মায়ের নাম জোবেদা খাতুন থেকে মাজু বিবি নামে ভূয়া কাগজপত্র বানিয়ে মাজু খাতুন নামে একজনের ওয়ারিশ সেজে তার উল্লেখিত জমি বিক্রি করে দেয়।
গত (২২ নভেম্বর) আলোচনার কথা বলে উপজেলা সহকারি ভূমি অফিসে বাদী-বিবাদীসহ জালিয়াতি করে জমি বিক্রেতা সোহেল আহম্মেদ খানকে ডেকে আনা হয়। এরপর জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে জাজিরা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন জাজিরা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানা।
এবিষয়ে জাজিরা থানায় মো. সোলায়মান খান বাদী হয়ে গত (২২ নভেম্বর) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বিপরীতে প্রতারক আসামী সোহেল আহম্মেদ খানকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।
জাজিরা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, বাবুল সরদারের অভিযোগটি তদন্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু ত্রুটি পাই। যার ফলে সন্দেহ হওয়ায় আমি জাজিরা উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে বিক্রেতা সোহেল আহম্মেদ খানের জাতীয় পরিচয় পত্র যাচাই করি। কিন্তু সেখানে তার মায়ের নামের সাথে মিল পাইনি। তাই তাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এক পর্যায়ে তার জালিয়াতির কথা স্বীকার করে নেয়। তখন তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।