রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জাজিরায় কৃষি-মালিকানা জমিতে পাউবোর খালখননে স্থানীয় বাঁধা

জাজিরায় কৃষি-মালিকানা জমিতে পাউবোর খালখননে স্থানীয় বাঁধা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচরে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। মালিকানা কৃষি জমিতে ও বসতবাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে খাল খনন কালে স্থানীয় শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ করে খাল খননকাজ বন্ধ করে দেয়।

তাদের দাবী এই তিন কিলোমিটার এলাকায় সরকারী খাল বা কোন খাস জমি নেই। তারা তাদের জমির উপর দিয়ে খাল খনন করতে দিবে না। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এক পর্যায়ে ঠিকাদার খাল খনন বন্ধ রেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

ঘটনা পরবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, সিএস ম্যাপে সরকারি জমি থাকলে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জনস্বার্থে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানায়, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর দক্ষিন দড়িকান্দি ব্রিজ থেকে কাজিরহাট অভিমুখী রাস্তার পাশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী কার্যাদেশ প্রদান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

খাল খননের জন্য ঝিনাইদহ জেলার লিটন ট্রেডার্সকে নিয়োগ করেছেন। বর্তমানে মাদারীপুর জেলার বাবু হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি খাল খনন শুরু করেন। স্থানীয়রা জানায়, মালিকানা ফসলি জমি নষ্ট করে এবং একাধিক বসত বাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল খনন শুরু করলে এলাকাবাসি ক্ষতির সম্মুখিন হয়। তখন এলাকাবাসী একজোট হয়ে ঠিকাদারকে খনন যন্ত্র বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন।

ঠিকাদার খাল খনন বন্ধ না করায় একসাথে ৫ শতাধিক এলাকাবাসী একজোট হয়ে খনন কাজ বন্ধ করে দেন। তারা আরও জানায় এখানে খাল খনন হলে এলাকাবাসীর বড় ধরনের ক্ষতি হবে। তাছাড়া এখানে খাল খননের কোন প্রয়োজন নাই।

ক্ষতিগ্রস্ত জয়নাল খার স্ত্রী তুহিন বেগম বলেন, আমার বাড়ি পালেরচর দক্ষিন দড়িকান্দি মৌজায়। আমার বাড়ি ও রাস্তার মধ্যে কোন সরকারি হালট বা খাস জমি নাই। তবুও সেখান দিয়ে খাল খনন শুরু করে। পরে আমার বাড়ি ঘর ভেঙ্গে খালে পড়ার উপক্রম হয়। এই বিষয়ে আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। আমার বাড়িসহ একাধিক বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি রক্ষার্থে এলাকাবাসীর সাথে মিলে খাল খনন কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সেনা সদস্য সেলিম মাহমুদ বলেন, আমার পৈত্রিক সম্পত্তি দিয়ে খাল খনন শুরু করে। খাল খনন করে মাটি আমাদের ফসলি জমিতে রাখে। অথচ এই এলাকায় কোন সরকারি হালট বা খাস জমি নাই। আমাদের এলাকার জমি খুব উর্বর। সেই জমিতে খাল খনন করলে ফসল উৎপাদনে ব্যঘাত ঘটবে। তাই আমরা সকলে মিলে খাল খনন বন্ধ করে দেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করি। সিএস ম্যাপ সংগ্রহ করে দেখব সরকারি সম্পত্তি বা খাল আছে কিনা। সিএস ম্যাপে খাল থাকলে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সাথে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহন করব। ওই জায়গা দিয়ে খাল খনন করলে যদি জনস্বার্থ রক্ষা হয় তাহলে খাল খনন করা হবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।