মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জয়নগর দাখিল মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর করা হয়েছে ৫টি শ্রেণি কক্ষ

Auto Draft
জয়নগর দাখিল মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলা ভাংচুরকৃত শ্রেণি কক্ষ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর নুরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোর ৬টায় স্থানীয় আলী হোসেন খানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসীর একটি দল এই হামলা করে। এই সময় মাদরাসার ৫টি শ্রেণি কক্ষ ও ১টি ক্যান্টিনে ভাংচুর করা হয়। এই সময় মাদরাসার নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরীকে গুরুতর আহত করা হয়। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবী করেছেন মাদরাসার সুপার। এই বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবী করেছেন।
মাদরাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে স্থানীয় মরহুম আদেল উদ্দিন খানের এক একর জমিতে মাওলানা আনিছুর রহমান মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাঠের উত্তর প্রান্তে টিন ও কাঠের তৈরী শ্রেণি কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। ২০০০ সালে মাদরাসার জন্য পাকা বহুতল ভবন বরাদ্দ দেয় সরকার। সেই সময় টিন ও কাঠের তৈরী পুরাতন ভবন মাঠের পূর্ব পাশে সরিয়ে নেয়া হয়। সেখানে চলছিল শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান। পাশেই নির্মাণ করা হয়েছিল মাদরাসা ক্যান্টিন। শ্রেণি কক্ষ ও ক্যান্টিন ভেঙ্গে জমি দখল করার জন্য স্থানীয় আলী হোসেন খান, নুর হোসেন খান তাদের সমর্থক সুজন খান, সুমন খান, সোহেলা খান নুর, আক্তার খান সহ ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্রধারী লোক মাদরাসার টিনশেট ভবনে ভোর ৬টায় হামলা চালায়। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় লোকজন এসে হামলাকারীদের প্রতিহত করে। এই সময় দপ্তরী ইসমাইল খানকে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা।
স্থানীয় মুলাই খা, মুনছের খা, আলওয়াল খা জানায়, জয়নগর মৌজার এসএ ৯ ও বিআরএস ৩৩ নং দাগের ২৪ শতাংশ মাদরাসার জমি আলী হোসেন খানের বসত বাড়ির মধ্যে রয়েছে। আর এসএ ৮ নং বিআরএস ৩৪ নং দাগে আলী হোসেন খানদের ১৭ শতাংশ জমি রয়েছে মাদরাসার মাঠের মধ্যে। এই নিয়ে ২১ বছর পূর্বে একটি বিরোধ সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন মাদরাসা ও আলী হোসেন খানগং নিজ নিজ দখল অনুযায়ী ভোগ দখলে থাকার সিদ্ধান্ত দিয়ে বিরোধ মীমাংসা করে দেন। সেই থেকে উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে ভোগ দখল করে আসছে। ২১ বছর পরে আলী হোসেন গং পূর্বের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মাদরাসার টিনশেট ভবন ভেঙ্গে ফেলে জমি দখলের চেষ্টা চালায়।
এই বিষয়ে মাদরাসার সহ-সুপার রুহুল আমিন, সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও কেএম সরোয়ার হোসেন জানায়, তারা যোগদানের পর থেকেই টিনশেট ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান দিয়ে আসছেন। বিগত দিনে এই ধরণের কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। কিছুদিন ধরে একটি পক্ষ মাদরাসা ভবন নিয়ে উৎপাত সৃষ্টি করছে। বুধবার সকালে সন্ত্রাসী কায়দায় টিনশেট ভবনে ভাংচুর করেছে।
মাদরাসার সুপার মো. তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ভাবে ২১ বছর পূর্বে জমির বিরোধ আপোষ মীমাংসা শেষে টিনশেট ভবন নির্মাণ করে মাদরাসার কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। বুধবার ভোরে জমির দাবীতে আলী হোসেন খান গং মাদরাসার টিনশেট ভবনে ভাংচুর করে। বাধা দেয়ায় আমাদের দপ্তরীকে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা। এই বিষয়ে আমি জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত নুর হোসেন খানের ছেলে সাগর খান বলেন, আমাদের জমি দখল করে মাদরাসা তৈরী করেছে। এই বিষয়ে আমার পিতা আদালতে মামলা করছে। মামলা তুলে নিতে প্রতিপক্ষ আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। আজ সকালে আমার পিতা বাজারে যাওয়ার সময় সেলিম খানের নেতৃত্বে লোকজনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। আমরা ৮ ভাই ঢাকায় থাকি তাই আমার মা ও বোন আমার আহত পিতাকে হাসপাতালে নেয়। পরবর্তীতে তারাই মাদরাসার টিন ছুটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। সরকারী মাদরাসায় ভাংচুর করার সাহস আমাদের নাই। মিথ্যা ঘটনায় বাজে ভাবে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল খান বলেন, মাদরাসার প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই মাদরাসার নামীয় জমি আলী হোসেন খানদের বাড়ির মধ্যে ছিল আর আলী হোসেন খানদের জমি মাদরাসার দখলে ছিল। তখনকার সময় স্থানীয় ভাবে বসে সিদ্ধান্ত হয় দখল বহাল রেখে উভয় পক্ষ জমি ভোগ দখল করবে। দীর্ঘদিন পরে বুধবার আলী হোসেন খানরা মাদরাসার টিনশেট ভবনে ভাংচুর করে দখলের চেষ্টা করে। বাঁধা দেয়ায় দপ্তরীকে আহত করেছে। ভাংচুরের অভিযোগ এনে মাদরাসার সুপার জাজিরা থানায় অভিযোগ করেছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে পুণরায় আপোষ মীমাংসার ব্যবস্থা করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।