মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

২৮ বছর বয়সেই ১২ মামলার আসামী জাজিরার কালু মুন্সী!

২৮ বছর বয়সেই ১২ মামলার আসামী জাজিরার কালু মুন্সী!
২৮ বছর বয়সেই ১২ মামলার আসামী জাজিরার কালু মুন্সী!

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৭টি মামলাসহ দন্ড বিধি ও বিস্ফোরক আইনে মোট ১২ মামলার আসামী ২৮ বছর বয়সী এক যুবক কালু মুন্সী। ইতোপূর্বে কালু একাধিকবার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন হাজতবাসে ছিলেন। জেল থেকে বের হলেই আবার জড়িয়ে যেতেন মাদকসহ রাষ্ট্র ও সমাজের বিরোধী কাজে। এমনি ভাবে মাত্র ২৮ বছরে তিনি ১২টি মামলার আসামী বনে গেছেন।
কালু মুন্সী শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার খোসাল শিকদার কান্দি গ্রামের বারেক মুন্সীর ছেলে। কালু ২০১৪ সালের ১০ জুন মাদক বিক্রি করতে গিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। তার পর থেকে কালুকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র ৭ বছরে তিনি ৭টি মাদক, ৩টি দন্ড বিধি ও ২টি বিস্ফোরক আইনে মামলার আসামী হয়েছেন। সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কাজে সক্রিয় একজন সদস্য হওয়ায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন কালু।
কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টুনিতে বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করে কালু মুন্সী। জাজিরা পৌরসভার লঞ্চঘাট এলাকায় নদীর তীরে ৮ ফুট উচু দেয়াল ঘেরা কালু মুন্সীর একটি বাড়ি রয়েছে। দেয়ালের উপরিভাগে আরো ৩ ফুট উচু করে দেয়া রয়েছে কাঁটা তারের বেড়া। বাড়ির প্রধান ফটকটিও শক্ত লোহায় তৈরী। সেই নিরাপত্তা বেষ্টুনির ভিতরে লোহাকাঠে তৈরী কালু মুন্সীর দ্বিতল টিনের ঘর। তাছাড়াও প্রভাবশারী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থেকে মাদক ব্যবসা করে কালু। জাজিরা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলন ইলিয়াস মাদবরের ভাগ্নে এ কালু মুন্সী।
এই বিষয়ে কালুর স্ত্রী শাবনুর জানায়, কালু এখন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত না। পূর্বের মাদক ব্যবসা ছেড়ে বর্তমানে মুরগীর খামার দিয়েছে। তার মামা ইলিয়াস মাদবরের বাড়িতে থেকে কালু বড় হয়েছে। তাই ইলিয়াস মাদবরের সাথে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে বলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। বর্তমানে নতুন কোন মামলা নাই তার স্বামীর বিরুদ্ধে। পূর্বের প্রায় ১০ থেকে ১২টা মামলা রয়েছে।
কালু মুন্সির মা জানায়, কালু ছোট থেকেই পিতার অবাধ্য সন্তান ছিল। পরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং পিতামাতার অমতে বিয়ে করায় কালু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
তবে সংগৃহীত তথ্য থেকে জানা যায়, কালু ২০১৪ সালের ১০ জুন, ২০১৫ সালের ৪ মার্চ, ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট ও ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ সালের ১৫ মে জাজিরা থানায় এবং ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট ভেদরগঞ্জ থানায় মামদসহ গ্রেফতার হয়।
স্থানীয়রা জানায়, কালু একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তার মাদক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এলাকায় সন্ত্রাস করে। পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য দখলে রেখে ত্রাসের সৃষ্টি করে। তার সহযোগী বাবুল মাদবর, ইলিয়াস মাদবর, বিপ্লব মাদবর, হালান মাদবর, ওয়াসিম মাদবর, মজিবর মাদবর, কামাল মাদবর, এমদাদ মাদবর, সুমন সিকদার একজোট হয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ সমাজ বিরোধী কাজের সাথে জড়িত রয়েছে। তাদের নামেও একাধিক মাদক ও বিস্ফোরক মামলা হয়েছে।
এই বিষয়ে জাজিরা থানা অফিসার ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান বলেন, কালু মুন্সীর বিরুদ্ধে জাজিরা থানা সহ জেলার অন্যান্য থানায় অনেক মাদক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি দন্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনেও মামলা আছে। সবকটি মামলায় কালু জামিনে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।