বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

যে কারণে জীবন দিতে হলো দাদনকে

যে কারণে জীবন দিতে হলো দাদনকে
যে কারণে জীবন দিতে হলো দাদনকে

পূর্ব শত্রুতা ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দাদন খলিফা (২৯) প্রথমে প্রতিপক্ষের দ্বারা গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে দাদনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় আধিপত্য ও পূর্ব শত্রুতায় জড়িতদের মামলায় আসামী করা হয়। একটি পক্ষ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য মেতে ওঠে।
নিহতের পিতা ও মামলার বাদী সেকান্দার খলিফা এজাহারে অভিযোগ লিখিয়েছেন, আসামী ইদ্রিস খা, আবুল খা, রশিদ খলিফা, আজিজ খলিফা, শাহ জাহান খা, আজাহার খা, নাছিম মাতবর, বাচ্চু মাতবর, রশিদ খলিফা ও শুকুর বেপারীদের সাথে পূর্ব শত্রুতা ও নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল তাদের। সেই বিরোধের জের ধরে ১৫ এপ্রিল রাত ৯টায় আসামীরা বাদির ছেলে দাদন (২৯) কে ধরে নিয়ে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও গুলি করে গুরুতর আহত করে। ওই সময় দাদনের সাথে থাকা স্বর্ণের ব্যাচলেট ছিনিয়ে নেয় আসামীরা। স্থানীয় ইদ্রিস খলিফা, রাজ্জাক খলিফা ও জুলহাস খলিফা আসামীদের কাছ থেকে দাদনকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনায় সেই রাতেই পালং মডেল থানায় হত্যার চেষ্টায় আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত দাদনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন। এ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকায় নেয়ার পথে দাদন মারা যায়। সংবাদ পেয়ে পালং পডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মামলায় দন্ডবিধির ৩০২ ধারা যোগ করে নেয়।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য হত্যার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে চেষ্টা করা হয়। হত্যার দায় অন্যের ঘারে চাপিয়ে দিতে মরিয়া হয় কতিপয় দুষ্ট প্রকৃতির লোক। সেই দুষ্ট লোকেরা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে বাদীসহ সকলের বক্তব্য পরিবর্তণ করেন। অথচ শেষ রক্ষা হয়নি দুষ্টামির।
পরিবর্তিত বক্তব্যে দোষী করতে চেষ্টা করা হয় শৌলপাড়া ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এসকান্দার সরদারের উপর। তার জনপ্রিয়তায় ভীতু হয়েই স্থানীয় পূর্ব শত্রুতার জেরের হত্যার দায় এসকান্দার সরদারের উপর চাপানোর চেষ্টা করা হয় বলে দাবী করেছেন গয়ঘর এলাকাবাসী। এসকান্দার সরদার ঘটনার সময় গয়ঘর সরদার কান্দি জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করছেন বলে দাবী করেন ওই মসজিদের ইমাম শামীম হোসাইন। একই দাবী করেছেন সেই মসজিদের মুছল্লি রফিকুল ইসলাম সরদার। তিনি আরও দাবী করেন, একই জামাতে এসকান্দার সরদারের সাথে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন সে। ঘটনাস্থল থেকে ২ কিলোমিটার দূরে গয়ঘর সরদার কান্দি বলে দাবী করেছেন বলে আবুল সরদার ও হেলেনা বেগম। তাদের আরও দাবী নিহত দাদনের পরিবারের সাথে তাদের কোন শত্রুতাও ছিল না। একটা কুচক্রী মহল হত্যার বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহীত করতে চক্রান্ত করে ব্যর্থ হয়েছে। শেফালী নামের এক মহিলা জানায়, তাদের এলাকায় এই পর্যন্ত কোন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় নাই। তাই এলাকাবাসী একজোট হয়ে এসকান্দার সরদাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে উৎসাহিত করেছে। তাছাড়াও এসকান্দার সরদার পূর্বে ইউপি সদস্য ছিল এবং এলাকাবাসীর প্রতি নজর রাখে। সুখ-দু:খে পাশে থাকে। এতে এসকান্দার সরদারের জনপ্রিয়তা দিনদিন বেড়েই চলছে। অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এসকান্দার সরদারের জনপ্রিয়তায় ইশ্বান্বিত হয়ে হত্যা মামলায় বাজে ভাবে ফাঁসাতে চেষ্টা করে।
এসকান্দার সরদারের স্ত্রী ঝুমুর জানায়, তার স্বামী ঢাকায় ব্যবসা করে। স্থানীয় লোকজন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য তার স্বামীকে সমর্থন দিয়েছে। তাই তার স্বামী শুধু এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের দোয়া প্রর্থনা করে। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দাদনকে হত্যা করা হয়েছে। তার স্বামী এই হত্যা কান্ডের সাথে কোন ভাবেই জড়িত না। তার স্বামী যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে তাই অপর চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মিথ্যা ভাবে হত্যা মামলায় ফাঁসাতে চেষ্টা করেছে।
এসকান্দার সরদার বলেন, আমি এর পূর্বেও শৌলপাড়া ইউপি সদস্য হিসেবে ৯ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। এখনও আমি ইউনিয়নের গরীব অসহায় মানুষের পাশে থাকি। সুখে-দু:খে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করি। কিছুদিন পূর্বেও আমি ১ হাজার গরীব অসহায় লোকদের ত্রাণ দিয়েছি। দিন দিন আমার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। তাছাড়া গংগা নগর, গয়ঘর ও খলিফা কান্দি কেন্দ্র এলাকায় আমি একমাত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী। এছাড়াও আরও ৫ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় রয়েছে। সেই সকল প্রার্থীরা আমার জনপ্রিয়তা দেখে চক্রান্ত শুরু করে। ইতোমধ্যে দাদন খলিফা হত্যা মামলায় জড়াতে চেষ্টাও করেছে। আমি এই হত্যা কান্ডের সাথে কোন ভাবেই জড়িত ছিলাম না। পারিবারিক ও স্থানীয় শত্রুতার জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে রাজনৈতিক বা নির্বাচনী কোন বিষয় নাই। আমি স্বেচ্ছাসেকলীগ শরীয়তপুর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি। আমার সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক আমার বিষয়ে বলতে পারবে আমি কি ধরণের রাজনীতি করি।
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আক্তার হোসেন বলেন, প্রথমে হত্যার চেষ্টা মামলা নেয়া হয়। ভিকটিমের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া মাত্রই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই মামলায় নতুন কোন আসামী যোগ করা হয়নি। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামী গ্রেফতারের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।