শনিবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
শনিবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজসে শরীয়তপুরে অনুদানের চেক আত্মসাৎ

চেক আত্মসাতের দায়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার স্বপন খান। ছবি-দৈনিক হুংকার।

সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজসে এক ক্যান্সার রোগীর আর্থিক সহায়তার চেক আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনার সাথে জড়িত স্বপন খা নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। আটককৃতকে জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল হক খান নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ পেয়েছে। ব্যাংকে গিয়ে সেই ব্যাংক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ঠতা প্রমানও পেয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা নুরুল হক খান মারা যাওয়ায় তার ছেলেকেও থানায় আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী উমেদ আলী খার লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাহমুদপুর খা পাড়া এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যান্সার রোগাক্রান্ত থাকায় চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তর থেকে উমেদ আলী খার অনুকলে চিকিৎসা সেবার জন্য ৫০ হাজার টাকার চেক প্রেরণ করেন। অনুদানের চেকসহ স্থানীয় স্বপন খা নামে এক ব্যক্তিকে নিয়ে সোনালী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখায় আসেন তিনি। সেই শাখার ব্যাংক কর্মকর্তা এবং মাহামুদপুর খা পাড়ার বাসিন্দা নুরুল হক খানের যোগসাজসে উমেদ আলীর নামীয় চেক ব্যাংকে জমা করে অনুদানের টাকা তুলে নেয় সে। উমেদ আলী খাকে তারা বলে দেয় আপনার অনুদানের টাকা পেতে ৮ হাজার টাকা খরচ লাগবে। উমেদ আলী গত জানুয়ারী মাসে ৮ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেয়। দীর্ঘ ৯ মাসেও অনুদানের সেই টাকা না পাওয়ায় প্রশাসনের সহায়তা চায় ভুক্তভোগী উমেদ আলী। পুলিশ অনুদানের টাকা আত্মসাৎকারী স্বপন খা কে গ্রেফতার করেছে। স্বপন খার কথামতে ব্যাংক কর্মকর্তার ছেলেকেও থানায় আনা হয়। তার মরহুম পিতা এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে বিষয়টি সমাধানে আশ^স্ত করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তার ছেলে।
ধৃত স্বপন খা জানায়, সোনালী ব্যাংকের তখনকার কর্মকর্তা নুরুল হক খানের কাছে অনুদানের চেক জমা দিয়েছে সে। সে কিভাবে কি করেছে তার জানা নাই। সে কোন টাকা আত্মসাৎ করে নাই।
বিষয়টি প্রমান করতে ধৃত স্বপন খান ও ব্যাংক কর্মকর্তার ছেলেকে নিয়ে সোনালী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখায় যায় পুলিশ কর্মকর্তা। সকলের উপস্থিতিতে ব্যাংক ম্যানেজার কামরুল হাসান দেখায় গত ২৬ জানুয়ারী ব্যাংকে ওই চেক জমা দিয়ে টাকা তুলেছে। চেকের পিছনে ব্যাংক কর্মকর্তা নুরুল হক খানের স্বাক্ষর রয়েছে। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হয়ে এই কাজটি ঠিক করেনি বলেও ম্যানেজার কামরুল হাসান মন্তব্য করেছেন।
মৃত ব্যাংক কর্মকর্তা নুরুল হক খানের ছেলে জানায়, তার বাবা চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারী মারা গেছেন। এই অভিযোগের সাথে তার পিতার কোন যোগসাজস থাকলে তার সমাধান করবেন তারা।
এই বিষয়ে পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বেলা ১১টার দিকে স্বপন খানকে মাহমুদপুর খা পাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতাও মিলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জালিয়াতি আইনে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।