শনিবার, ২ জুলাই ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২ জিলহজ ১৪৪৩ হিজরি
শনিবার, ২ জুলাই ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

গঙ্গানগর ধলেশ্বরী মন্দির কমিটির আয়োজনে বৈশাখ বরণ মেলা

গঙ্গানগর ধলেশ্বরী মন্দির কমিটির আয়োজনে বৈশাখ বরণ মেলা

শরীয়তপুর সদর উপজেলার গঙ্গানগর সার্বজনীন শ্রী শ্রী ধলেশ্বরী মন্দির কমিটির আয়োজনে বঙ্গাব্দ বরণে বৈশাখী মেলা-১৪২৯ এর আয়োজন করা হয়েছে। মেলা ঘিরে রয়েছে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য। শত শত দোকানী হরেক পণ্যের পশরা সাজিয়ে বসেছেন। নানা বয়সী (শিশু-কিশোর-যুবক-যুবতী-বৃদ্ধ) হাজার হাজার ক্রেতা মেলায় ভীড় জমিয়ে নিজেদের পছন্দের পণ্য ক্রয় করছেন। বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতি বৈশাখের প্রথম দিন এই ধরণের মেলার আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন মন্দির কমিটি।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, ৫ শতাধিক দোকান বসেছে। প্রসাধনীর দোকান বসেছে ধলেশ্বরী মন্দির ঘেষে পশ্চিম পাশে। মাটির তৈরী তৈজসপত্র ও খেলনার পশরা সাজিয়ে বসেছেন মেলার মধ্যভাগে। ফল ও মিষ্টির দোকানীরা বসেছেন পূর্বপাশ ঘিরে। কাঠের তৈরী খেলনা ও লোহার তৈরী দা, বটি নিয়ে পশরা সাজিয়ে বসেছেন পূর্ব উত্তর পাশে। মেলার দক্ষিন পাশে বসেছে চটপটি ও ফুচকার দোকান। পশ্চিম পাশে লাগানো হয়েছে নাগরদোলা। এ ছাড়াও মেলায় রয়েছে ভ্রাম্যমান দোকানী। তারা তাদের পণ্য নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। শিশুদের মানকাড়া এই পণ্য বিক্রিতে ভীড় জমে যায়। মেলা থেকে বাঁশি কিনে ফুকতে থাকে শিশু ও কিশোররা।
কিশোরী ও নারীদের ভীড় দেখা যায় প্রসাধনীর দোকানে। নারীদের সাথে আসা পুরুষরা বাচ্চা ও ব্যাগ নিয়ে পাশাপাশি থাকেন। নাগরদোলায় দেখা গেছে সকল বয়সী নারী-পুরুষদের। নাগরদোলায় উঠে কেউ অট্টহাসির মূর্ছনায় দৃষ্টি কাড়ে। আবার ভীত কন্ঠের কান্নয় আবার আতঙ্কিত করেন অনেকে। চটপটি ও ফুচকার দোকানে পর্দার আড়ালে ভীড় লেগেই থাকছে। সবশেষে মিষ্টি ও ফলের দোকান থেকেই মেলা ছাড়ছেন অনেকে।
মেলায় আশা শিশুরা হাতে মেহেদীর ছাপ দিচ্ছে। এই সাথে মাটির তৈরী ঘোড়া. হাতি, বাঘ, মাছ, আম, কাঠাল ক্রয় করছে। সম্পূর্ণ ক্রয় সাধ্যের মধ্যে থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করছে তারা। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, বৈশাখী মেলা ছাড়া বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি, কুলা, চালন ইত্যাদি দেখাই যায় না। মেলায় এলে খেলনার ছলে হলেও ঐতিহ্যের আকৃতি তারা বুঝতে পারেন।
স্থানীয়রা জানায়, শত বছরের বেশী সময় ধরে এই মেলাটি বসে। ফাল্গুন মাস শুরু হলেই বাচ্চাদের মাজে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দেয় কবে বৈশাখ মাস আসাবে। প্রতি বৈশাখে তারা এই মেলাকে উপভোগ করে। এই মেলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বাংলার ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত করা যায়।
মন্দির কমিটির সভাপতি রনজিত ঘোষ বলেন, এই মেলাটি শত বছরের ঐতিহ্য। আমার পূর্ব পুরুষ এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতি বৈশাখ বরণে মেলার আয়োজন করতেন। আমরাও তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখছি। যখন যে মন্দির কমিটিতে থাকবে সেই মেলা পরিচালনা করবে। আমি আশা করব এই মন্দিরে পূজা হবে এবং বৈশাখ বরণে প্রতি বছরই বৈশাখী মেলা হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।