মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরিঘাটে তীব্র যানজট

শরীয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরিঘাটে তীব্র যানযট
পারাপারের অপেক্ষমান পণ্যবাহী ট্রাক। ছবি-দৈনিক হুংকার।

ফেরী সংকটে খুলনা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে শরীয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরী ঘাটে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এ যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আযহা কে সামনে রেখে গরু বোঝাই ও লকডাউন শিথিল হওয়ায় যাত্রীবাহি গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এ ঘাট এলাকায় তিন কিলোমিটার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার আব্দুল মমিন জানান, যানবাহনের সংখ্যা কয়েক গুন বৃদ্ধি পেলেও ফেরী সংখা বৃদ্ধি না করায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। যানজট নিরোশন কল্পে ও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ভোলা লক্ষ্মিপুর রুট থেকে বড় একটি ফেরি কলমিলতা আজ নরসিংহপুর ফেরি বহরে যোগ করা হয়েছে। এতে করে যানবাহনের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিন দিনের যানজটের কারণে ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় গরমের কারণে ১০ টির গরু এ ঘাটে মারা যায় বলে ব্যবসায়ী ও খামারীরা জানান।
স্থানীয় চরসেন্সাস ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জিতু মিয়া বেপারী জানান, এ পথে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বিভাগের সাথে বরিশাল, খুলনা বিভাগসহ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ২১ টি জেলার শতশত পন্য ও যাত্রীবাহি যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে পশুবোঝাই ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম থেকে পূর্ব ও দক্ষিনের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য এ ঘাটটি ব্যবহার করেন। সব কয়টি ফেরি স্বাভাবিক থাকলে প্রতিদিন ছোট বড় মিলে ৪২০ থেকে ৪৫০ টি গাড়ি পারাপার করতে পারে এখানকার ছয়টি ফেরি।
১৭ জুলাই শনিবারও যাত্রীবাহি বাস পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। গরু বোঝাই ট্রাক কে প্রাধান্য দিয়ে ফেরি চলাচল করছে। বিশ্বরোডের খায়েরপট্রি এলাকা থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। দুই কিলোমিটার রাস্তায় পাশাপাশি দুইটি করে ট্রাক দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা ট্রাফিক পুলিশের একটি দল পালাক্রমে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের অভিযোগ তাদের পাড় না করে শুধু গরু বোঝাই ট্রাক পাড় করছে ফলে তারা ৩ দিন ধরে আটকে আছে।
যশোর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী রাজিব হোসেন বলেন, নিজ এলাকা থেকে কয়েকজনের গরু নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছি বিক্রির জন্য। এখন এ ঘাটে এসে আটকে আছি। রোদে বৃষ্টিতে গরুর যেই অবস্থা মনে হয় দুইটা বাঁচানো দায় হয়ে যাবে।
আরেক ব্যবসায়ী লোকমান আলী বলেন, কাল রাতে ১২ ফেরিঘাটে এসেছি। কিন্তু এখনো ওপার যেতে পারিনি। আমার সামনে এখনো ৭০টির উপরে গাড়ি রয়েছে। কখন যে ওপারে যেতে পারবো তার কোন ঠিক নেই। গরু দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে হাপিয়ে উঠেছে এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা।
ঘাট সংশ্লিষ্ট মোঃ মনির বেপারী জানান, বাস বা গরু বোঝাই গাড়ি আসলে সিরিয়ালের মাধ্যমে পাড় করে দেওয়া হচ্ছে। একটি ফেরিতে দুই থেকে তিনটি পণ্যবাহী গাড়ি দিয়ে বাকি গুলো যাত্রীবাহী বাস ও গরু বোঝাই ট্রাক ওঠানো হচ্ছে। পন্যবাহাী ট্রাকের মধ্যে কাচামালের গাড়ি কে আবার প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে। ঘাটে পারাপারের জন্য পন্যবাহী ৪০০ ট্রাকের মতো এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ বলেন, শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটের মেঘনা নদীর পারাপারে নরসিংহপুর ফেরিঘাটে ৬টি ফেরি নিয়মিত চলাচল করতো। ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরু বোঝাই ট্রাক ও লকলাউনের কঠোর বিধি নিষেধ প্রত্যাহারের সাথে সাথে যাত্রীবাহি বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এতে এই ঘাটে তিন দিন প্রায় তিন কিলোমিটার যানজট লেগেছিল। যানজট নিরোশন করে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ভোলা-লক্ষ্মিপুর রুট থেকে বড় একটি ফেরি কলমিলতা নরসিংহপুর ফেরি বহরে যোগ হয়েছে। এ ছাড়া জেলা উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ বিভাগ ফেরি পাড়াপাড় স্বাভাবিক রাখতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।

পারাপারের অপেক্ষমান যাত্রীবাহি বাস। ছবি-দৈনিক হুংকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।