মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গোসাইরহাটে ফাটল ধরা ঘর মেরামতে দ্রুত কাজ চলছে

গোসাইরহাটে ফাটল ধরা ঘর মেরামতে দ্রুত কাজ চলছে
গোসাইরহাটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল ধরায় পুণরায় সংস্কার করা হচ্ছে। ছবি-দৈনিক হুংকার।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে জমিসহ গৃহের ব্যবস্থা করা হয়। সেই লক্ষে গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুরে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ছয়মাস না যেতেই মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরে ফাটল দেখা দেয়। এর মধ্যে একটি ঘর বেশী ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেই ঘরে বসবাসকারীদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ঘরে ফাটল ধরা অংশ অপসারণ করে নতুন ভাবে মেরামত করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শণও করেছেন।
স্থানীয় ভাবে জানাগেছে, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ইদিলপুর ইউনিয়নের মহিষখালী মৌজায় নির্মিত ২১টি ঘর নির্মাণ করে গৃহহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। ২১টি ঘরেই আংশিক ফাটল ধরে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প (আশ্রয়ণ প্রকল্প-২) এর ক তালিকার গৃহহীন ভূমিহীন অসহায় পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গেল অর্থ বছরে ইদিলপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি মৌজায় ৬৭ শতাংশ জমির উপর ২১টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণ ব্যয় ধরা ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে নির্মিত এসব ঘর গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উপকার ভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। সেমি-পাকা দুই কক্ষ বিশিষ্ট এসব ঘরের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পরছে। গোসাইরহাট উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলমগীর হুসাইন ও সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার চৌধুরী। সঠিক তদারকির অভাবেই এই সমস্যা হয়েছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী ও উপকারভোগী পরিবার।
উপকার ভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মতো আশ্রয়হীন মানুষের কথা চিন্তা করেছেন সেজন্য আমরা খুশি। একটি মহল প্রকল্প থেকে অধিক মুনাফার জন্য নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেছে। তাই বৃষ্টি নামলেই অনেক ঘর দিয়ে পানি পরে। অল্প দিনেই ঘরের ফ্লোর ফেটে গেছে। পিলারও ফেটে গেছে। এই ঘর কয়দিন টিকে জানিনা। তাছাড়া জমিটাও অনেক নিচু। বর্ষা শুরু না হতেই উঠান সমান পানি হয়।
গোসাইরহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। প্রকল্পের জন্য জায়গাটা বাছাইতে ভুল ছিল। তাছাড়া অতিবর্ষনের কারণে অনেক ধরণের সমস্যা হচ্ছে। এরপরও আশ্রয়ণ প্রকল্পস্থল টিকিয়ে রাখতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সমস্যার স্থানগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়েছে।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানভির আল নাসীফ বলেন, নির্মাণে ত্রুটির জন্য এই সমস্যা হয়েছে। আমরা সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করেছি। প্রকল্পের চারপাশে জিও ব্যাগ ফেলে নিরাপত্তা বেস্টুনি তৈরী করা হয়েছে। এর ভিতরে বালু ফেলা হবে। অল্প সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।