মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনা দুর্যোগে শরীয়তপুরে অসচ্ছলদের পাশে নেই বিত্তবানরা

করোনা দুর্যোগে শরীয়তপুরে অসচ্ছলদের পাশে নেই বিত্তবানরা

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পরে ওই মাসের ২৬ তারিখ থেকে প্রথম পর্যায় সরকার সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেন। এ সময় স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় স্থবিরতা নেমে আসে। বেকার ও কর্মহীন হয়ে পরে দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নিম্ন আয়ের মানুষ। এ সময় সরকার মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি জেলার শত শত বিত্তবানরাও সহায়তার হাত বাড়িয়ে করোনায় কর্মহীন ও বেকার হয়ে পরা দরিদ্র মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। ফলে সে সময় কর্মহীন অসচ্ছল মানুষদের তেমন হাপিতাশ করতে হয়নি।
এ বছর গত ১ জুলাই থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর দেশে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জীবন বাঁচাতে সরকারি নির্দেশনা পালনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার মাঠে কাজ করায় যথাযথ ভাবে লকডাউন পালিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার মাধ্যমে সরকারি সহায়তা কর্মহীন অসচ্ছল মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে দেখা গেলেও বিত্তবানরা সহায়তার হাত বাড়াচ্ছেনা।
এবার গত বছরের তুলনায় শরীয়তপুর জেলার মানুষ বেশী সমস্যার সন্মুখিন হলেও গত বছরের তুলনায় বেসরকারি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান সমূহকে সহায়তার হাত বাড়াতে দেখা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কর্মহীন হয়ে পরা অসচ্ছল ব্যক্তিরা। তারা জানান, সরকারি সহায়তা মোটামুটি পেলেও গত বারের মত ধনী, বিত্তবান ও সমাজ সেবকরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকুরীচ্যুত রাশিদা বেগম জানান, গত বছর করোনা দুর্যোগের সময় একেক জন ২/৩ করে সাহায্য দিয়েছে। তাদের ভোটে দাঁড়নোর সম্ভাবনা আছিল বলেই তারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। এখন ভোট হবেনা যেনেই তারা কেউ আর আমাদের খোঁজ খবর রাখছেনা।
মহিষার ইউনিয়নের অটো চালক মোঃ সালাউদ্দিন জানান, করোনা দুর্যোগে এখন ঘরে বেকার সময় কাটাচ্ছেন। সরকারি সহায়তার জন্য হাত পাত্তে পারছেন না। আবার এলাকার কেউও তার খোঁজ খবর রাখছেন না। ৪ সন্তান সহ ঘরের ৭ সদস্য নিয়ে ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। হয়তো দুয়েক দিনের মধ্যে তাও বন্ধ হয়ে যাবে। গত বছর এসময় অনেক বিত্তবানরা তাদের সহায়তা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন। যার মধ্যে আমি নিজেও ৪-৫ পেয়েছি।
শরীয়তপুর জেলায় কর্মরত সাংবাদিক খোরশেদ আলম বাবুল বলেন, গত করোনার সময় আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোরতোর ছিল। এবার পৌরসভা নির্বাচন ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। আর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত থাকায় বিত্তবান ও সমাজসেবীদের সহায়তার আগ্রহে ভাটা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাস থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ৪ কোটি ৯৯ লক্ষ ২২ হাজার ৫০০ নগদ টাকা। ৯৯ হাজার ১৬১ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ৮৪ হাজার ৯শ ৫০ জনের মাঝে ১০ কেজি করে মোট ৮৪৯ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল, ১ হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য ও ১ হাজার ২০০ পশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
অপর দিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলার ৬ উপজেলায় ২৭ হাজার ৫০০ পরিবারের মাঝে ৩ কোটি ৮২ লক্ষ নগদ টাকা ও ১৪৭ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে আবেদনকারী ৬৮৪ জনকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
চলতি জুলাই মাসে জেলার ৬টি পৌরসভায় করোনায় বেকার হওয়া অসচ্ছল পরিবার গুলোকে সহায়তার জন্য পৌরসভা প্রতি ১০ মেট্রিক করে ৬০ মেট্রিক চাল ও ১ লক্ষ করে মোট ৬ লক্ষ নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা ইতিমধ্যেই বিতরণের প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের অনুকুলে ২৭৫ মেট্রিক টন চাল, ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা উপজেলা থেকে প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী বিতরণ করা হবে। এছাড়াও ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৬৪ হাজার ৯৫০ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা দুই/এক দিনের মধ্যেই বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সৈয়দ মোঃ আজিম উদ্দিন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে আমরা মানুষের ঘরে ঘরে সহায়তা পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করছি। যে কেউ জেলা প্রশাসন অথবা আমাদের উপজেলা প্রশাসনকে ফোন করলেই আমরা তাকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। বিশেষ করে আমি ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি প্রতিবন্ধি ও ভবোঘুরে মানুষ সহ হাট-বাজারে অবস্থানরত পশু পাখিও যেন খাদ্য কষ্টে না ভোগে তার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছি। প্রয়োজন মত আমাকে জানালে আমি সেখানে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান বলেন, মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছি। লকডাউন কড়াকড়ি ভাবে প্রতিপালন করার জন্য সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার এর সহায়তায় মাঠে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। সেই সাথে জেলার অসচ্ছল ও কর্মহীনরা যাতে খাদ্য কষ্টে না ভোগে সে লক্ষে আমরা ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় আমাদের নির্বাহী অফিসারগণ কঠোর লকডাউন পালনের পাশাপাশি জনস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।