মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরের মুচি সম্প্রদায়ের কষ্টের নাম লকডাউন

শরীয়তপুরের মুচি সম্প্রদায়ের কষ্টের নাম লকডাউন
কর্মহীন বসে থাকা মুচিদের দোকান। ছবি-দৈনিক হুংকার।

করোনা ঠেকাতে চলমান লকডাউনে বন্ধ রয়েছে কাজ। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষেরা বেশ বেকায়দায় পড়েছেন। তেমনি শরীয়তপুরের মুচি সম্প্রদায়ের জন্য কষ্টের বোঝা নিয়ে এসেছে এই লকডাউন। ঠিক যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।
নিজের অসহায়ত্বের কথা জানাতে গিয়ে বুড়িরহাট বাজারের মুচি সমরেশ ঋষি বলেন, লকডাউনের আগে দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হলেও এখন বিধি নিষেধের ফলে দিনে ৫০ টাকা রোজগার করা যায়না। ঘরে চাল নেই। চাল নিলে ঘরে রান্না হবে। কিন্তু দুপুর হয়ে গেছে এখনো ৪০ টাকার কাজ করতে পারিনি। চাল কিনব কি দিয়ে আর অন্য কিছুই বা কিনব কীভাবে? সকালে মরিচ দিয়ে ভাত খেয়ে এসেছি।
তিনি বলেন, ছয় জনের পরিবারে আমিই একমাত্র উপার্জনক্ষম। চার যুগের বেশি সময় ধরে মুচির কাজ করি। সরকারি সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও পাইনি। এখন দিনে যা পাই তা দিয়ে যা হয় তাই কিনি।
কথা হয় ভেদরগঞ্জের মুচি জুগল ঋষির সঙ্গে। তিনি বলেন, সারাদিনে ৬০ টাকার কাজ করেছি। গতকাল সকালে ১০ টাকা আর দুপুরের পর ৬০ টাকা, এই মোট ৭০ টাকার কাজ করেছি। এতে চারজনের সংসারের বাজার করেছিলাম। আসার সময় বউ বলে দিয়েছে তেল নিতে। এখনো এক লিটার তেলের দাম রোজগার করতে পারিনি। মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। জুতা-স্যান্ডেল-ব্যাগ কই পাব। যার অনেক দরকার তারাই শুধু বের হয়। তাও হাতে গোনা।
জানাগেছে জেলায় ১০০ পরিবারের মতো মুচি রয়েছেন। লকডাউনের নাম শুনলেই সবার বুক কেঁপে ওঠে। আমরা দিনে যা রোজগার করি তা দিয়ে বাজার করে বাসায় যাই। জমানো কোনো টাকা থাকে না। আর বিধিনিষেধ দেওয়ায় কাজের সুযোগ আরো কমে গেছে। এখন দিনে ৫০ টাকাও আয় হয় না। এতে সংসারের পেছনে খরচ, ছেলেমেয়ের পেছনে খরচ, কিস্তিসহ অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা যায়, করোনার দ্বিতীয় দফায় বিধিনিষেধের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে চাল ও টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। জেলায় ৮ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ৩৩৩ নম্বরে ফোন দিলে কর্মহীন মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, কর্মহীন যারা বিপাকে রয়েছেন তাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসন বরাদ্দ অনুযায়ী অসহায় মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা নিয়ে যাচ্ছেন। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট কমছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।