বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুর জেলা পরিষদ যার প্রতিটি স্থানেই নান্দনিকতার ছোঁয়া

শরীয়তপুর জেলা পরিষদ যার প্রতিটি স্থানেই নান্দনিকতার ছোঁয়া
শরীয়তপুর জেলা পরিষদ ভবন। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর জেলা পরিষদ ভবনটি নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের ও পথচারীদের হাতছানি দেয়। শিল্পীর অংকনে রূপচিত্রের মাঝে যেন, কবির কাব্যে কল্পকথা নিয়ে পরস্ফুটিত হয়ে জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি। যা দেখলে যেকোন দর্শনার্থীর দৃষ্টিতে শান্তির পরশে জড়িয়ে যাবে হৃদয় ও মন।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী সুকদেব বিশ্বাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ নুর হোসেন মিয়াসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাণের এ কর্মস্থলে সেবা নিতে আসা মানুষ গুলোর অপেক্ষার সময় কখন যে কেটে যায় নিজেরাই ভুলে যান। কারণ এখানে এসে পেটের ক্ষুদা নিবারন না হলেও হৃদয়ের তৃষ্ণা মিটে যায়। দৃষ্টিনন্দন ভবনের বাহির, ভিতর সর্বত্রই যেন নয়নাভিরাম। একবার এলে মন আর ছেড়ে যেতে চায়না।
দেয়ালে জাতির জনকের ফটোগ্রাফির সাথে প্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রোষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের আলোক চিত্র আপনাকে আকৃষ্ট করবেই! আপনি পূর্ব সড়ক বা পশ্চিম সড়ক ধরে ভবনের প্রধান ফটকের কাছে এলেই ভবনের সৌন্দর্য আপনাকে টেনে নিয়ে আসবে। প্রধান প্রবেশ দ্বারে আসার পরে ফটকের সৌন্দর্য আপনার হাত ধরে টেনে নিয়ে যাবে ভিতরে। যাবার পূর্বে একটু ভিতরেই মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলক দেখে দাঁড়িয়ে থাকবেন? না! আপনাকে আর একটু ভিতরে নিয়ে যাবে যার ডাকে সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ, লাল সবুজ পতাকা সেই মহান নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল। এবার জাতির জনকের সৌন্দর্য মন্ডিত ম্যুরাল দর্শন ও তাকে সম্মান জানিয়ে হাতের বামে তাকালেই জেলা পরিষদ পুষ্পকুঞ্জ। যেখানে শতবর্ণের পুস্পে ভরা শাখি আপনাকে জেলা পরিষদের সম্মুখ বাগানে ঘুরতে বাধ্য করবে। বাগানে বাহারী ফুল আর ফল দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন? তাহলে নতুন স্থাপিত ফ্লোরা ও তাজমহলের সামনে বসে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন। এখানে বসলে হৃদয়ে জাগ্রত হবে সম্রাট শাজাহানের অমর প্রেমের নিদর্শন আগ্রার তাজমহলের রূপের কথা। এখানে বসে একটু বিশ্রাম নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন পুকুরের চার পাশ। তাহলে দক্ষিণা হিল্লুল আপনার হৃদয়ে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিবে। ক্লান্ত হয়ে পড়লে আপনি পুকরের দক্ষিণ ঘাটলায় একটু বসেন। শরীয়তপুর জেলা পরিষদে ঘুরতে আসা ভেদরগঞ্জ উপজেলার আবদুল মান্নান ছৈয়াল বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। আমার জেলায় জেলা পরিষদ ভবন এত সুন্দর, তার ভিতরে বাহিরে সকল দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাস হবেনা। পরিপাটি এ ভবনের ক্যাম্পাসটি আরো বেশি সুন্দর।
ডামুড্যা পৌর এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগম আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন তিনি বলেন, শিক্ষা, বিনোদন, ইতিহাস ঐতিহ্য সবই এখানে পাবেন। তার জন্য আপনার একটি সুন্দর মন লাগবে। এখানে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর স্বপ্নের বাস্তবরূপদানকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার উন্নয়নকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সম্মানিত করা হয়েছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও। জেলা পরিষদের কাছে তিনি প্রত্যাশা রেখে বলেন, হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার স্মৃতি সমূহ যেমন পালকি, গরুর গাড়ী, নৌকা, ঢেঁকি, কাহাইল, মাথাল, কুঁড়েঘর এর প্রদর্শণী রাখলে দর্শনার্থীদের চাহিদার ষোল আনাই পূর্ণ হতো। এগুলো বাস্তব না হলেও কীর্তিম তৈরী করা সম্ভব। যদি এটা করা হয় তবে জেলা পরিষদের রূপ লাবন্য চারিদিকে ছড়িয়ে পরবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ নুর হোসেন মিয়া বলেন, আমার জন্মস্থান শরীয়তপুর হওয়ায় শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রতি আমার দরদ কেন জানি একটু বেশি। এ ক্যাম্পাসটিকে শ্রীবৃদ্ধি করার জন্য স্যারদের সাথে আমিও কাজ করেছি।
জেলা পরিষদের রূপকল্প যার প্রয়াস সেই সহকারী প্রকৌশলী সুকদেব বিশ্বাস বলেন, জেলা পরিষদের সৌন্দর্যতা ও নান্দনিকতা আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যান স্যারের ও প্রধান নির্বাহী স্যারের রুচিশীল মনের পরিচয়। তাদের চিন্তা চেতনার ফসল আজকে এ দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। স্যারদের চিন্তার ফসলই আমি তাদের নির্দেশে বাস্তবায়ন করেছি মাত্র।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেন বলেন, পরিবেশ সুন্দর থাকলে মনও ভাল থাকে। আমাদের জেলা পরিষদের সৌন্দর্যের কারণে আমাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের গতি ফিরে এসেছে। আর আগত সেবা গ্রহিতারা যারা আমাদের এখানে সেবা গ্রহণের জন্য আসেন তারা দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ দেখে বিমোহিত হয়ে যখন বলেন পরিবেশটা সুন্দর, তখনই মনে হয় আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। আমাদের জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান সাহেব ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদারসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যগণের সম্মিলিত প্রয়াসেই আমাদের জেলা পরিষদ ক্যাম্পাস ও ভবন সমূহকে দৃষ্টিনন্দন করতে পেরেছি।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার বলেন, জেলা পরিষদ ভবন ও কম্পাউন্ডের সৌন্দর্যের জন্য আমি আমার পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যদের মনের বহিপ্রকাশ বলে মনে করি। আমি বলেছিলাম আমাদের জেলা পরিষদের পরিবেশ সুন্দর করতে হবে। তারা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে আজকের এ অবস্থায় নিয়ে এসেছে। এর জন্য আমি পূর্ববর্তী প্রধান নির্বাহী মোঃ দিদারুল আলম ও বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেন সাহেবকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

View post on imgur.com

শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রবেশ দ্বার। ছবি-দৈনিক হুংকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।