সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দূর্নীতির চিত্র-২ ॥ কম্পিউটার অপারেটরের প্রভাবে অতিষ্ঠ সাধারণ কর্মচারীরা

শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দূর্নীতির চিত্র-২ ॥ কম্পিউটার অপারেটরের প্রভাবে অতিষ্ঠ সাধারণ কর্মচারীরা
রিয়াজুল ইসলাম। ফাইল ফটো।

শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মূদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজুল ইসলাম এর অবৈধ প্রভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ কর্মচারীরা। অভিযোগ রয়েছে সে জেলা রেজিস্ট্রারের সুদৃষ্টিতে থাকায় এ প্রভাব বিস্তার করছেন। এর থেকে রেহাই পেতে চান অসহায় কর্মচারীরা।
একাধিক সূত্রে জানাগেছে, জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দায়িত্বরত কর আদায় (টিসি) সহকারী সাইফুল ইসলাম মৃধা (বাচ্চু) ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী তারিকুল ইসলাম মুন্সী টেবিলে অলস বসে থাকেন। অথচ সপ্তাহের দুই দিন অফিস করেও সকল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেন কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজুল ইসলাম। জেলা রেজিস্ট্রার অমৃত লাল মজুমদার এর ছত্রছায়ায় এই কাজ করছে সে। রিয়াজুলের জন্য কম্পিউটার ডেক্স নির্ধারিত থাকলেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে আলাদা আলাদা টেবিল বসিয়ে কর্তৃত্ব করেন। সে জেলা রেজিষ্ট্রারের হয়ে সকল উপজেলায় ঘুরে সপ্তাহের বুধবার সকালে জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে ভাগ বাটোয়ারা সম্পন্ন করে শরীয়তপুর ছাড়েন। চারদিন বাড়িতে থেকে পরবর্তী রোববার শেষ বেলায় অফিসে প্রবেশ করেন সে। এক কথায় তিনি সোমবার ও মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ অফিস করেন। অফিসের সিসি ক্যামেরাই তা প্রমান মিলবে। অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারীর নিকট অফিসের চাবি থাকার কথা থাকলেও এই দপ্তরে পুরোটাই উল্টো। অফিসের চাবি বহন করেন কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজুল ও সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের টিসি মোহরার কাইয়ুম মিয়া। এমনি ভাবেই চলছে জেলা রেজিস্ট্রারের দপ্তর। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জেলা রেজিস্ট্রারের দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ৫তলা ভবনের গর্বিত মালিক সহ অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন। শরীয়তপুর জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমিসহ ৪তলা একাধিক ভবনের মালিক বনেছেন সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের টিসি মোহরার কাইয়ুম মিয়াও। নিজের অবৈধ ইনকাম বজায় রাখতে এই সকল অসম্ভবকে সম্ভব করার সুযোগ করে দিয়েছেন জেলা রেজিস্ট্রার নিজেই।
বিশস্ত সূত্রে জানা যায়, বদলীসহ যেকোন বিষয়ে রিয়াজুল ও কাইয়ুমের সাথে আলাপ করতে হয়। এই দুইজনকে খুশি করতে পারলেই সকল অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়ে যায়।
ইতোমধ্যে চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী বদলীর বিষয়েও চাহিদাপত্র চেয়েছেন তারা। টিসি মোহরার ও অফিস সহকারী পদে পছন্দের জায়গায় বদলী পেতে হলেও লক্ষ লক্ষ টাকা গুনতে হয়। জেলা অফিসে কোন কাজের জন্য গেলেও এদের খুশি করা না হলে কাজ আটকে থাকে অজানা কারণে। মাঝে মধ্যেই উপজেলা কথিত ভিজিটের নামে চলে টাকা আদায়।
এই বিষয়ে কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজুল ইসলাম জানায়, সে নিয়মিত অফিস করে এবং কোন অনিয়মের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নাই।
জেলা রেজিস্ট্রার অমৃত লাল মজুমদার জানান, জেলার একমাত্র কর্তাব্যক্তি এবং তিনি স্বেচ্ছাধীন কিছু কাজকর্ম করার ক্ষমতা রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।