সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বদলী বাণিজ্যসহ অনিয়মের অভিযোগ

শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বদলী বাণিজ্যসহ অনিয়মের অভিযোগ
অমৃত লাল মজুমদার। ফাইল ফটো।

শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার অমৃত লাল মজুমদার এর বিরুদ্ধে বদলী বাণিজ্যসহ অধিনস্থ কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যেও তিনি অর্থের বিনিময়ে একজনের পদোন্নতি আটকে রেখে অন্যজনকে পদোন্নতি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সহ জেলার সকল সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কর্মচারীদের মাঝে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে নিজের ক্ষমতাবলে বদলী আটকে রেখেছেন বলে জেলা রেজিস্ট্রার দাবী করেন।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, জেলা সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে মো. কাইয়ুম মিয়া, গোসাইরহাটে নাজমা আক্তার, ডামুড্যায় আব্দুল হালিম ও জাজিরায় মোজাম্মেল হোসেন ট্যাক্স আদায়কারী (টিসি) মোহরার পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১৮ মার্চ তাদের ৩ বছর সময়সীমা পূর্ণ হয়েছে। নড়িয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের টিসি মোহরার দিলরুবা আক্তারের তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী তিন ডিসেম্বর আর ভেদরগঞ্জ সাব রেজিস্টার অফিসে একই পদের সবিতা রঞ্জন দে’র তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী বছরের জানুয়ারীতে।
সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের টিসি মোহরার মো. কাইয়ুম মিয়ার সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও তাকে বদলী করা হচ্ছে না। কারণ হিসেবে জনিয়েছেন, ভেদরগঞ্জে দায়িত্বরত সবিতা রঞ্জন দে’র আগামী বছরের জানুয়ারীতে ৩ বছর পূর্ণ হবে। তখন সবিতা রঞ্জন দে কে সদরে আর কাইয়ুম মিয়াকে ভেদরগঞ্জে বদলী করা হবে। সেই জন্য বড় ধরনের অর্থ বিনিময় হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারী পর্যন্ত এই বদলী আটকে রাখতে চেষ্টা করছেন জেলা রেজিস্ট্রার।
জেলা রেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস ঘুরে কর্মচারীদের সাথে আলাপকালে জানায়, এই কর্মকর্তা বিগত দিনেও বদলী নিয়ে বড় ধরনের বাণিজ্য করেছে। সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের জন্য একজন অফিস সহকারী পদে যোগদান করতে আসে। তার যোগদান পত্র আটকে রেখে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্য জনকে যোগদান করায়। এবার ৪ জন টিসি মোহরার বদলীর সময় পাড় হয়ে গেছে। যাদের বদলীর সময় হয়নি তাদের সাথে জেলা রেজিস্ট্রার চুক্তি করে রেখেছে তাই বদলীও আটকে দিয়েছে। এই বিষয়ে কেউ কোন কথা বললে জেলা রেজিস্ট্রার খারাপ আচরণ করেন। তাছাড়া তিনি উপজেলা ভিজিটের নামে অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। ১ সপ্তাহের বেশী সময় যাবৎ তার মোবাইল হারিয়েছে বলে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন।
অনিয়মের বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার অমৃত লাল মজুমদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লকডাউনের সময় আমি বাসা আর অফিস ছাড়া কোথাও যাই নাই। আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ পূর্ববর্তী ষ্টেশনে দুই বছরের জন্য পাঠিয়ে সেখানে আমাকে তিন বছর রেখেছে। আমি একজন জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে আমার অধিনস্থ কর্মচারীদের বদলী করার ক্ষমতা রাখি। জেলায় আমাকে নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নাই। আমার ক্ষমতাবলেই আমি এই সব করতে পারি।
বিষয়টি জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান কে জানানো হলে তিনি বলেন, যদিও জেলা রেজিস্ট্রার আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রনাধীন দপ্তর। তবুও আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।-ধারাবাহিক ভাবে চলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।