মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতির চিত্র-২, অব্যহতি নেওয়ার দেড়যুগ পরে মোখলেছকে চাকুরিতে যোগদানের নেপথ্য কাহিনী

Auto Draft
মোকলেছুর রহমান গোরাপী। ছবি-দৈনিক হুংকার।

স্বাস্থ্য বিভাগে যখন সবই সম্ভব তখন ১৮ বছর চাকুরিতে অনুপস্থিত থেকে পুনরায় চাকুরিতে যোগদান করাও সম্ভব। স্বাস্থ্য সহকারী মোকলেছুর রহমান গোরাপী স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে প্রবাসে চলে যাওয়া ও ১৮ বছর পরে ফিরে স্বপদে যোগদান করানো স্বাস্থ্য বিভাগের সহজ বিষয়। যদিও এটি ছিল একটি রীতিমতো দূর্নীতি তবুও স্বাস্থ্য বিভাগে তাও সম্ভব। এই দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তৎকালীন প্রধান সিভিল সার্জন ডাঃ নিতিশ কান্তি দেবনাথ ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সহকারী গোলাম মোস্তফা। ১৮ বছর পরে চাকুরিতে যোগদান করতে যে পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে তার মূলে ছিলেন ওই দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বর্তমান দায়িত্বরত কতিপয় কর্মচারী। এতোবড় দূর্নীতিকে এখনও তাড়া সময়ের স্রোতে ভাসিয়ে দিতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
গত ৫ মে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকাসহ ৬ মে স্থানীয় দৈনিক হুংকার পত্রিকায় স্বাস্থ্য বিভাগের এই অনিয়ম তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সকল ক্ষেত্রে সেই সংবাদ পত্র পৌঁছে যায়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ডাক্তার এসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ অদ্যবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই সেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ১৮ বছর প্রবাসে থেকে ফিরে চাকুরিতে যোগদান করা স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে।
ব্যবস্থ্যা গ্রহণ না করার কারণ, স্বাস্থ্য সহকারী মোকলেছুর রহমান গোরপীর তথ্য চেয়ে শরীয়তপুর সিভিল সার্জন বরাবর তথ্য অধিকার আইনে ফরম ‘ক’ অনুযায়ী ২০২০ সনের ১৩ জানুয়ারী আবেদন করা হয়। আবেদন প্রাপ্তি হয়ে সিভিল সার্জন অফিসের কতিপয় প্রভাবশালী কর্মচারী তথ্য না দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে যায়। বড় ধরণের অর্থলোভও দেয়া হয় প্রতিবেদককে। ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয় প্রতিবেদকের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মাধ্যমে। কোন কিছুতেই সুবিধা করতে না পেরে তালবাহানা করা হয় তথ্য দিতে। আবেদন পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য প্রদানের নিয়ম থাকলেও তথ্য দিতে সময় নেয় দুই মাস।
স্বাস্থ্য বিভাগে পদন্নোতি, একই পদে থেকে বারবার পদন্নোতিসহ নানা অনিয়ম। এর নেপথ্যে ছিল তৎকালীন প্রধান সহকারী গোলাম মোস্তফা। গোলাম মোস্তফা এখন এলপিআর এ চলে গেলেও রেখে গেছেন চেয়ার। সেই চেয়ার থেকেও একই পদ্ধতির ধারাবাহিকতা বজায় আছে। প্রধান সহকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, মোলেছুর রহমান গোরাপী প্রবাসে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে সুস্থ্যতার সনদ দিয়ে চাকুরীতে যোগদান করেছেন। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল হক হাওলাদার এই বিষয়ে আমার চাইতে ভালো বলতে পারবে। কারণ তার ছেলেকেও মোকলেছুর রহমান গোরাপী স্পেন নিয়েছে। নুরুল হক হাওলাদারের ছেলে এখনও স্পেনে থাকে। আমার কাছে শুধু কাগজ পত্র নিয়ে এসেছে আর আমি তার প্রক্রিয়া সমাপ্ত করেছি। মানসিক রোগ থেকে সুস্থতার স্বপক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মানসিক রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদা বেগম কর্তৃক সনদ নিয়ে আসে।
এই বিষয়ে খবর নিয়ে দেখা গেছে সেখানে এই নামের কোন চিকিৎসক সেই সময়ে কর্মরত ছিলেন না।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল হক হাওলাদার বলেন, আমি জাজিরা উপজেলা চাকুরী করতাম। ৬ বছর ধরে নড়িয়ায় বদলী হয়েছে। তবে জানি মোকলেছুর রহমান গোরাপী স্পেনে থাকত। আমার ছেলেকেও সেই স্পেনে নিয়েছে। মোকলেছ স্পেন থেকে ফিরে পুনরায় চাকুরীতে যোগদান করেছেন।
সিভিল সার্জন অফিসের বর্তমান প্রধান সহকারী শাহ আলম বলেন, মোকলেছুর রহমান গোরাপীর বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তা পড়েছি। এই বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিস থেকে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।