মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মহসিনের নামের ঘর টাকার বিনিময়ে পেল নিলুফা

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মহসিনের নামের ঘর টাকার বিনিময়ে পেল নিলুফা
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মহসিনের ঘর নিলুফার বাড়ীতে। ছবি-দৈনিক হুংকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান “যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় গোসাইরহাট উপজেলার শামন্তসার ইউনিয়নের লাকাচুয়া গ্রামের মহসিন সরদার নামের এক প্রতিবন্ধির নামে একটি ঘর বরাদ্দ হয়। টাকার বিনিময়ে সেই ঘর পেয়েছে একই এলাকার মৃত সামচেল হক হাওলাদারের স্ত্রী নিলুফা। এর নেপথ্যে রয়েছে ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজ সরদার। সরেজমিন গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
জানাগেছে, লাকাচুয়া গ্রামের দিনমজুর ইউনুছ সরদারের ছেলে প্রতিবন্ধি মহসিন সরদার (৩৫) একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি। স্ত্রী সন্তান নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছেন। গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম মহসিনের প্রতি সদয় হয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেন। ঘরটি রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব দেয়া হয় শামন্তসার ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজ সরদারকে। মেম্বার সিরাজ সরদার ঘর দেওয়ার কথা বলে প্রথমে উপকারভোগী মহসিনের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে মেম্বার সিরাজ সরদার মহসিনের ঘরটি একই এলাকার নিলুফা নামে এক মহিলাকে দিয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি মহসিনের ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দেয়। এখন নিলুফার বাড়িতে সরকারি সেই ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ নিলুফার বাড়িতে সরকারি ঘরের সাথে পাথরে খোদাই করে মহসিনের নাম লেখা রয়েছে।
নিলুফার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি ঘরটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে অনেক আগেই। সেই ঘরে বাড়ির অন্যান্য লোকেরা তাদের ফসল রেখেছে। নিলুফার খোঁজ করতে বাড়ির মানুষ উপস্থিত হয়ে জানায়, ‘নিলুফার স্বামীর মৃত্যুর পরে ঢাকায় চলে গেছেন। সেখানেই তিনি গার্মেন্টে চাকুরী করেন। এই ঘর নির্মাণ হওয়ার পরে নিলুফাও বাড়ি আসেনি বা তার পক্ষে এই ঘরে অন্য কেউ বসবাসও করে না।
ঘরের প্রকৃত মালিক মহসিন সরদার বলেন, মেম্বার সিরাজ সরদার আমার চাচাতো ভাই। ঘরের ইট-বালু, সিমেন্ট নিয়ে ট্রলার আমার বাড়ির সামনে আসে। আমার বাড়িতে ঘর তোলার জায়গা নাই জানিয়ে মেম্বার আমার টাকা ফেরত দিয়ে দেয়। পরে নিলুফার বাড়িতে নিয়ে সেই ঘর উঠায়। ঘরের সাথে পাথরে খোদাই করা আমার নাম এখনও রয়েছে।
মহসিনের পিতা ইউনুছ সরদার জানায়, বাড়ির জমিতে ঘর দিতে পারবেনা শুনে পাশের অন্য একটা জমি দিতে চাই। মেম্বার সেখানেও আমার প্রতিবন্ধি ছেলের ঘরটা দেয় নাই। পরে বেশী টাকার বিনিময়ে ঘরটা অন্যকে দিয়ে দেয়।
মেম্বার সিরাজ সরদার বলেন, আমি টাকার বিনিময়ে কাউকে ঘর দেইনি। মহসিন ঘর তুলতে জায়গা দিতে পারে নাই বলে নিলুফাকে ঘরটা দেই। নিলুফার কাছ থেকেও কোন টাকা নেয়া হয় নাই।
গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বলেন, প্রতিবন্ধি মহসিনের নাম তালিকায় দেই। মহসিনের জন্য একটা ঘর বরাদ্দ হয়। মেম্বার সিরাজ সরদারকে দায়িত্ব দেই ঘরটা উঠিয়ে দিতে। সিরাজ মেম্বার এই ঘর থেকে কোন টাকা নিয়েছে কিনা তা আমার জানা নাই। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী এই ঘরটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়েছেন। এই ঘর বাবদ কেউ টাকা নিয়ে থাকলে অবশ্যই অন্যায় করেছে।

লাকাচুয়া গ্রামের নিজ বাড়ীতে দাঁড়িয়ে আছেন মহসিন সরদার। ছবি-দৈনিক হুংকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।