মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অভ্যন্তরে দূর্নীতির চিত্র-১

শরীয়তপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অভ্যন্তরে দূর্নীতির চিত্র-১
মোকলেছুর রহমান গোরাপী। ছবি-দৈনিক হুংকার।

প্রায় দেড়যুগ প্রবাসে থেকে পুণরায় স্বাস্থ্য বিভাগে চাকুরিতে পুণ:বহাল হয়েছে মোকলেছুর রহমান গোরাপী। স্বাস্থ্য বিভাগ ছাড়া অন্য কোন বিভাগে কী এমনটা সম্ভব? জনমানুষের পাশাপাশি এমন প্রশ্ন ছিল প্রতিবেদকেরও। তবে কি ভাবে বাস্তবায়ন হলো মোকলেছুর রহমানের এই দূরসন্ধি পরিকল্পনা? তাছাড়া কে এই মোকলেছুর রহমান গোরাপী? তার উত্তর প্রতিবেদকের কাছে ছিল না। উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে থলের সাপ। এটি কোন ডোরা বা বিষহীন সাপ না। এ যে এক কিং কোবরা (জাতিসাপ)। এর দৌরাত্ব যেমন বিস্তৃত তেমনি শিকড়ও অনেক গভীরে। গন্ধটা মিষ্টি হোক বা বাজে তাতে কোন সমস্যা নাই। সেই গন্ধটাও ছড়াচ্ছে চারদিক থেকে। মূল রহস্য উদঘাটন হবে লিখনির মাধ্যমেই।
এবার জেনে আসি কে এই মোকলেছুর রহমান গোরাপী? মোকলেছুর রহমান গোরাপী শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নে নিজ বেতনে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে চাকুরি করেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাস্থ্য সহকারী পদের চাকুরিতে যোগদান করেন। ৯ বছর চাকুরি করে নিজেকে শারীরিক ও মানসিক রোগাক্রান্ত এবং চাকুরি করতে অক্ষমতার কারণ দেখিয়ে সরকারি পাওনাদি বুঝে নিয়ে স্বইচ্ছায় চাকুরি ছেড়ে যায় সে। প্রায় ১৭ বছর পরে শারীরিক ও মানসিক রোগমুক্ত হয়ে পরবর্তীতে তিনি ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারী পুণ:রায় নিজ পদে চাকুরিতে বহাল হয়। চাকুরিতে বহাল হয়েই থেমে থাকেননি মোকলেছুর রহমান গোরাপী। তিনি নিজ বেতনে চাকুরিতে পদোন্নতিও নিয়েছেন। এখন তিনি বনে গেছেন কর্তা ব্যক্তি।
চাকুরি ছেড়ে যাওয়ার সময় ২০০৫ সালে শরীয়তপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে আবেদনের মাধ্যমে জানিয়েছেন শারীরিক ও মানসিক রোগে স্বাস্থ্য সহকারী মোলেছুর রহমান গোরাপী অসুস্থ্য ছিলেন। আবার চাকুরীতে পুণ:নিয়োগের সময় শারীরিক ও মানসিক সুস্থ্যতা দেখিয়ে মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক সুস্থতার স্বপক্ষে সনদ প্রদান করেছেন তিনি।
প্রকৃত ঘটনা এই, তিনি কখনও শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়নি। তিনি ১৯৯৭ সন থেকে ইউরোপের স্পেন প্রবাসে চলে যায়। ৭ বছর পরে প্রবাস থেকে ফিরে ২০০৪ সনে স্বাস্থ্য বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তার কু-পরামর্শ ও সহায়তায় চাকুরি থেকে অবসর নেয়ার আবেদন করেন। তার পরেও তিনি আরও ১০ বছর স্পেন প্রবাসে থেকে ২০১৫ সনে দেশে ফিরে স্বাস্থ্য বিভাগের সেই কর্মকর্তা কর্মচারীদের পরামর্শে শারীরিক ও মানসিক সুস্থ্যতার ভূয়া সনদ সংগ্রহ করে চাকুরীতে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি দিব্বি চাকুরী করছেন এবং পদোন্নতি নিয়ে কর্মকর্তা বনেছেন।
মোকলেছুর রহমান গোরাপী জানায়, সে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে চাকুরী থেকে অবসরে যায়। পরে তিনি প্রবাসেও ছিলেন। চাকুরীতে পুণ:বহালের সময় তিনি প্রবাসে থাকার কথা গোপন করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ চাইলে প্রবাসে থাকার কাগজপত্র দাখিল করবেন।
অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর নামসহ অবশিষ্ঠ অংশ জানতে আগামী পর্বের জন্য অপেক্ষা করতে পাঠকদের অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।