সোমবার, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি
সোমবার, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চন্দ্রপুরে ইজিপিপি প্রকল্পে চলছে সাগর চুরি

চন্দ্রপুরে ইজিপিপি প্রকল্পে চলছে সাগর চুরি
চন্দ্রপুরে ইজিপিপি প্রকল্পের কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান’ কর্মসূচির কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে চন্দ্রপুর ইউনিয়নে ১৯৬ জন শ্রমিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্যা ও সচিব সেলিম মিয়ার সমন্বয়ে চারটি প্রকল্প করে শ্রমিক ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্রকল্পে ২৫ জন, দ্বিতীয় প্রকল্পে ৪৩ জন, তৃতীয় প্রকল্পে ৬০ জন ও চেয়ারম্যানের প্রকল্পে ৬৮ জন শ্রমিক রেখে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রোববার ১১টার দিকে চেয়ারম্যানের চরগাজিপুর হামিদ খানের বাড়ির সামনে হতে দক্ষিনে নুরুল আমিন আকনের জমির সীমানা অভিমুখে খাল পুন: খনন প্রকল্পে গিয়ে ৬৮ জন শ্রমিকের স্থলে ৫ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে।
শ্রমিক আতাউর, হাকিম, ফয়জল মাদবর, কালাচান ফকির ও সামসুলহক মাদবর জানায়, এই প্রকল্পের শুরু থেকে তার ১০ জন শ্রমিক কাজ করে আসছে। কয়েকদিন যাবত তারা ৬ জন শ্রমিক এই প্রকল্পে কাজ করেন। ২ মে রোববার ইলিয়াছ আসে নাই তাই তারা ৫ জনে কাজ করছেন। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করে চলে যায় তারা। শুরুর দিকে ভেকু দিয়েও মাটি কেটেছে এই প্রকল্পে।
যেখানে প্রতিদিন ৬৮ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা ছিল সেখানে ৫ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করে। অবশিষ্ট শ্রমিকের কোন হদিস মিলেনি প্রকল্পের কাজে। সরকারী অর্থায়নে উন্নয়ন কাজে ৬৮ জন শ্রমিকের স্থলে ৫ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোকে কি সাগর চুরি বলা চলে? যেখানে প্রতিদিন ৬৮ জন শ্রমিকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৩ হাজার ৬০০ টাকা। সেখানে ৫ জন শ্রমিককে দেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা। ফলে প্রতিদিন সরকারের অর্থ তছরূপ হচ্ছে ১১ হাজার ৬০০ টাকা।
প্রকল্পের সভাপতি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্যা বলেন, প্রকল্পের কাজ এই ভাবেই হয়। আমি উপজেলায় আছি। আপনারা সচিবের সাথে দেখা করে যান।
এই বিষয়ে ইউপি সচিব সেলিম মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক বাধ্যবাধকতা আছে আমি কিছুই বলতে পারব না। অথচ এই সচিবের অধিনে সরকারি অর্থ খরচ করা হয়েছে রাস্তা পরিস্কার, নদীর কচুরিপানা পরিস্কার ও রাস্তার ইট সরিয়ে সেখানে মাটি দিয়ে ভড়াটের কাজে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কোন সুযোগ নাই। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনদীপ ঘরাই বলেন, কাজ না করে বিল নেয়ার সুযোগ নাই। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।