শুক্রবার, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গরীবেরচরে ঘর দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা

গরীবেরচরে ঘর দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা
গরীবেরচরে এই ঘর দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ছবি-দৈনিক হুংকার।

গোসাইরহাটের গরীবেরচরে অনুমোদনহীন বে-সরকারী সংগঠন থেকে গরীব অসহায় মানুষকে ঘর দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে শতশত গরীব পরিবার এই সংগঠনের কর্মকর্তা কর্মচারীর খপ্পরে পরেছে। স্থানীয় কতিপয় স্বার্থন্বেষী লোকজন এই কথিত সংগঠনকে সহায়তা করছে বলেও জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আলওয়ালপুর ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা সমাজ সেবা অফিস, গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই বিষয়ে কোন তথ্য নাই।
সরেজমিন পরিদর্শণ কালে দেখা যায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আরওয়ালপুর ইউনিয়নের (৩ নং ওয়ার্ড) সেলিম ঢালীর কান্দির মালেক সরদারে বাড়ির সামনে একটি হাঁস-মুরগী পালনের ঘরে বহু কল্যাণ সংগঠন নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানে ফাতেমা পান্না নামে এক মহিলা পরিচালক বনেছেন। তিনি ঢাকায় থাকেন। তার ছেলে গোলাম রাব্বি সাগর ৫১ নং গরিবেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জুয়েলকে সাথে নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করেন। এখন তারা ঘর দেয়ার কথা বলে প্রত্যেক গরীব অসহায় মানুষের কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করতেছে।
দায়িত্বে থাকা গোলাম রাব্বি সাগর জানায়, মিজানুর রহমান সুমন নামে এক ব্যক্তি ঢাকায় ব্যবসা করে। সেই ব্যবসায়ির টাকায় গরীব মানুষকে সহায়তা করার জন্য বহু কল্যাণ সংগঠন নামে সহায়তা করা হচ্ছে। এই পর্যন্ত ঘর প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। ঘর তৈরীর খুঁটি, টিন, কাঠ দেয়া হবে। এতে ২৯ হাজার টাকা খরচ পরবে। এই সংগঠন চালানোর জন্য তারা কোন ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে নাই। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারও এই বিষয়ে কিছুই জানে না বলে তিনি দাবী করেন। তবে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেছেন বলে দাবী করেন। সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়জুল বারি এই সংগঠনের নামে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য কোন আবেদন পায়নি বলে জানিয়েছেন।
সাগর তার প্রভাব ও প্রতিপত্তির দাপট প্রকাশ করে আরও জানায়, প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা এসে তার বিপক্ষে কোন ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। সাগরের পক্ষে সুবিধাভোগী ৪০ জন এসে প্রশাসনের কাজে বাঁধা দিবে। তার পরেও যদি প্রশাসন তাকে নিয়ে যায় তাহলে ২ ঘন্টার বেশী সময়ও রাখতে পারবে না।
আলওয়ালপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম কাজী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল শনি জানায়, এলাকার মানুষকে ঘর দেয়ার কথা বলে গোপনে শত শত মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেছে। কিছু মানুষকে কয়েকটি ঘর দিয়ে হাজার মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এই সংগঠন পালিয়ে যাবে। এর পূর্বেও এই সাগর এয়ারপোর্টে চাকুরি দেয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে চাকরি দিতে না পেরে টাকা ফেরত দিয়েছে। ইউরোপে যাওয়ার জন্য সাগরের ডাক্তারী পরীক্ষা হয়েছে এখন কৌশলে টাকা সংগ্রহ করে পালিয়ে যাবে।
ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন বয়াতী জানায়, দুইটি ঘরের জন্য তিনি ১৩ হাজার টাকা জমা দিয়েছে। এই পর্যন্ত একটি ঘরের জন্য কাঠ ও টিন পেয়েছে। বাদল কাজী, বাবুল হাওলাদার, ছালেহা, হারুন পাইক সহ অনেকেই এখনও ঘর পায়নি বলে জানিয়েছেন।
আলওয়ালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওচমান বেপারী বলেন, আমার ইউনিয়নে এই ধরণের কাজ চলছে তা আমিই জানি না। আমার পরিষদ থেকে কোন ট্রেড লাইসেন্সও নেয় নাই।
এই বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, এমন কোন তথ্য আমার কাছে নাই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।